ঢাকা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo যবিপ্রবি প্রবাহ সাংস্কৃতিক সংঘের নেতৃত্বে প্রতনু-ফাহিম Logo জুরাইনে গুলিতে সিএনজি চালক হত্যা : প্রধান আসামি বাপ্পারাজ গ্রেফতার  Logo চলন্ত বাসে বাঙলা কলেজের ছাত্রীকে রাতভর গণধর্ষণ, চালক-হেলপারসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo জাবিতে ইংরেজি বিভাগের ক্লাসরুম সংকট সমাধানের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি Logo প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক সন্ধ্যায় Logo হাবিপ্রবি ছায়া জাতিসংঘের নেতৃত্বে নাবিলা-ফারিশতা Logo ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রাশিয়ার Logo ছুটির বিকালে ঢাকার মধ্যে ঘুরতে পারেন ৫ স্থানে Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo ‘ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন হাবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থী

ইসরাইলি পণ্য বিক্রি না করার আহবান জানিয়ে মাইকিং

  • Admin Section
  • প্রকাশিত ০৫:৪৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • ৬৫ বার পঠিত

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের লাগাতার আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ এবং গাজায় ইসরাইলি হত্যা বন্ধ ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্থানীয় জনগণ, মুসল্লি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে অংশ নেন। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল- ইসরাইলি পণ্য বর্জনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা।

বিক্ষোভকারীরা গাবতলা মসজিদ থেকে মিছিল শুরু করে স্বপ্ন সুপার শপ, আগোরা, সোনালী বাজার, ইউনিমার্ট, জিং লিং রেস্টুরেন্ট এবং স্থানীয় বিভিন্ন গ্রোসারি শপ ঘুরে সচেতনতামূলক লিফলেট, স্টিকার ও ফেস্টুন বিতরণ করেন। দোকানদারদের আহ্বান জানানো হয়- ইসরাইলি পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেশীয় পণ্যে মনোযোগ দেওয়ার জন্য।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক দোকানি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের দোকানে থাকা ইসরাইলি পণ্য বের করে এনে সেগুলো প্রকাশ্যে ধ্বংস করেন। পথচারীরাও স্লোগানে মুখরিত হয়ে এ প্রতিবাদে একাত্মতা জানান।

তারা বলেন, তোমার টাকায় যেন না হয় গাজায় বোমা ফেলার কারণ, ইসরাইলি পণ্য মানে গাজায় রক্ত, আমাদের টাকায় আর চলবে না হত্যাযজ্ঞ, নারী, পুরুষ, শিশু সব বয়সি মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশ নেন মিছিলে। তারা বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ চলবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু আন্তর্জাতিক কোমল পানীয় কোম্পানি যেমন কোকাকোলা, স্প্রাইট, সেভেন আপ ইসরাইলেও ব্যবসা করে এবং তাদের লাভের অংশ ইসরাইলি আগ্রাসনে ব্যয় হয়। তাই দেশীয় কোম্পানিগুলোর উচিত দোকানদারদের প্রণোদনা দিয়ে এ পণ্যগুলোর বিকল্প তৈরি ও জনপ্রিয় করা।

বিক্ষোভটি হাজারীবাগ থেকে শুরু হয়ে পশ্চিম ধানমন্ডির বিভিন্ন অলিগলি, কাঁচাবাজার ও সুপারশপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলের এক পর্যায়ে ছোট ছোট শিশুরাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্লোগানে অংশ নেয়।

হাজারীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান জানান, ইসরাইল গত এক থেকে দেড় বছরে গাজায় যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তাতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। এটি নিছক যুদ্ধ নয়, বরং একটি পরিকল্পিত গণহত্যা।

বিক্ষোভ শেষে শহীদ ফিলিস্তিনিদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে যতদিন না ইসরাইল তার হামলা বন্ধ করে ও ফিলিস্তিন স্বাধীনতা ফিরে পায়। পাশাপাশি সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়- দেশব্যাপী ইসরাইলি পণ্যের তালিকা প্রকাশ ও নিষিদ্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

এলাকার সচেতন নাগরিকেরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং একটি মানবিক আন্দোলনের শুরু।

জনপ্রিয়

যবিপ্রবি প্রবাহ সাংস্কৃতিক সংঘের নেতৃত্বে প্রতনু-ফাহিম

ইসরাইলি পণ্য বিক্রি না করার আহবান জানিয়ে মাইকিং

প্রকাশিত ০৫:৪৪:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের লাগাতার আগ্রাসন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ এবং গাজায় ইসরাইলি হত্যা বন্ধ ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্থানীয় জনগণ, মুসল্লি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে অংশ নেন। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল- ইসরাইলি পণ্য বর্জনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা।

বিক্ষোভকারীরা গাবতলা মসজিদ থেকে মিছিল শুরু করে স্বপ্ন সুপার শপ, আগোরা, সোনালী বাজার, ইউনিমার্ট, জিং লিং রেস্টুরেন্ট এবং স্থানীয় বিভিন্ন গ্রোসারি শপ ঘুরে সচেতনতামূলক লিফলেট, স্টিকার ও ফেস্টুন বিতরণ করেন। দোকানদারদের আহ্বান জানানো হয়- ইসরাইলি পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেশীয় পণ্যে মনোযোগ দেওয়ার জন্য।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক দোকানি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজেদের দোকানে থাকা ইসরাইলি পণ্য বের করে এনে সেগুলো প্রকাশ্যে ধ্বংস করেন। পথচারীরাও স্লোগানে মুখরিত হয়ে এ প্রতিবাদে একাত্মতা জানান।

তারা বলেন, তোমার টাকায় যেন না হয় গাজায় বোমা ফেলার কারণ, ইসরাইলি পণ্য মানে গাজায় রক্ত, আমাদের টাকায় আর চলবে না হত্যাযজ্ঞ, নারী, পুরুষ, শিশু সব বয়সি মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অংশ নেন মিছিলে। তারা বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ চলবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কিছু আন্তর্জাতিক কোমল পানীয় কোম্পানি যেমন কোকাকোলা, স্প্রাইট, সেভেন আপ ইসরাইলেও ব্যবসা করে এবং তাদের লাভের অংশ ইসরাইলি আগ্রাসনে ব্যয় হয়। তাই দেশীয় কোম্পানিগুলোর উচিত দোকানদারদের প্রণোদনা দিয়ে এ পণ্যগুলোর বিকল্প তৈরি ও জনপ্রিয় করা।

বিক্ষোভটি হাজারীবাগ থেকে শুরু হয়ে পশ্চিম ধানমন্ডির বিভিন্ন অলিগলি, কাঁচাবাজার ও সুপারশপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলের এক পর্যায়ে ছোট ছোট শিশুরাও রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্লোগানে অংশ নেয়।

হাজারীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান জানান, ইসরাইল গত এক থেকে দেড় বছরে গাজায় যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তাতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে। এটি নিছক যুদ্ধ নয়, বরং একটি পরিকল্পিত গণহত্যা।

বিক্ষোভ শেষে শহীদ ফিলিস্তিনিদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে যতদিন না ইসরাইল তার হামলা বন্ধ করে ও ফিলিস্তিন স্বাধীনতা ফিরে পায়। পাশাপাশি সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়- দেশব্যাপী ইসরাইলি পণ্যের তালিকা প্রকাশ ও নিষিদ্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

এলাকার সচেতন নাগরিকেরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং একটি মানবিক আন্দোলনের শুরু।