ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মা গৃহপরিচারিকা, থাকেন ভাড়া বাসায়, স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় আটকে গেল শিক্ষক পদে নিয়োগ Logo চলন্ত বাসে শিশুর জন্ম, মা-ছেলের আজীবন ভাড়া ফ্রি Logo শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ছাত্রকে শূন্যে তুলে আছাড় দিলেন সহপাঠীর ‘অভিভাবক’ Logo কুবিতে সেশনজট নিরসনে একযোগে সব বিভাগের পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ Logo বরিশালে হাত-পা বাঁধা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার Logo ৬৫ বছরের ঐতিহ্য উদযাপনে রাবির পরিসংখ্যান বিভাগে জাতীয় সম্মেলন Logo বইয়ের নেশা, যুক্তির মঞ্চ ও বিচারকের আসন: কুবির শামীমের বিজেএস জয়ের উপাখ্যান Logo মাদকের আসরে পরিণত বাকৃবি, কর্মচারীর পরে এবার হাতেনাতে ধরা কলেজছাত্র Logo মেট্রোরেলের ৪৬ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব অনুমোদন Logo টানা দ্বিতীয় বছর বিশ্বমঞ্চে সাফল্য,ইউরোপের মঞ্চে রানার্স-আপ বাকৃবি

হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রলীগ ক্যাডারদের দায়মুক্তি, প্রধান আসামি এনএসআইয়ের চাকরিতে

খুলনায় ২০১০ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনার দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর মামলা দায়ের করা হলেও ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে ভুক্তভোগীরা সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করেন। তবে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা তদন্তের নামে নানা টালবাহানা করে আসামিদের দায়মুক্তির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেছেন, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১০ সালের মার্চ মাসে খুলনার সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী রায়হান বিন কামাল ও এজিএস প্রার্থী ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। তৎকালীন সময়ে সিটি কলেজের ছাত্রলীগ ভিপি প্রার্থী বি এম মাহিমের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে রায়হানকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের অব্যাহত হুমকির মুখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিভিন্ন শহরের হাসপাতালে পালিয়ে বেড়াতে হয়। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর তৎকালীন সময়ে পুলিশ প্রশাসন মামলা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

সম্প্রতি খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি বি এম মাহিম বর্তমানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই-এর মতো সংবেদনশীল দপ্তরে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় এই মামলার আসামিরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারা অবিলম্বে এই পক্ষপাতদুষ্ট ফাইনাল রিপোর্ট বাতিল করার জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এনএসআইতে কর্মরত প্রধান আসামি বি এম মাহিমকে অবিলম্বে চাকরি থেকে অপসারণ, পুলিশের দাখিল করা মিথ্যা ফাইনাল রিপোর্ট বাতিল এবং মামলার তদন্তভার সিআইডি কিংবা পিবিআইয়ের মতো নিরপেক্ষ সংস্থার কাছে হস্তান্তর। একই সঙ্গে জড়িত সমস্ত চিহ্নিত ক্যাডারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং পক্ষপাতমূলক চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদানকারী তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

জনপ্রিয়

মা গৃহপরিচারিকা, থাকেন ভাড়া বাসায়, স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় আটকে গেল শিক্ষক পদে নিয়োগ

হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রলীগ ক্যাডারদের দায়মুক্তি, প্রধান আসামি এনএসআইয়ের চাকরিতে

প্রকাশিত ০৬:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

খুলনায় ২০১০ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনার দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর মামলা দায়ের করা হলেও ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে ভুক্তভোগীরা সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করেন। তবে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা তদন্তের নামে নানা টালবাহানা করে আসামিদের দায়মুক্তির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেছেন, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১০ সালের মার্চ মাসে খুলনার সরকারি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী রায়হান বিন কামাল ও এজিএস প্রার্থী ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। তৎকালীন সময়ে সিটি কলেজের ছাত্রলীগ ভিপি প্রার্থী বি এম মাহিমের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে রায়হানকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের অব্যাহত হুমকির মুখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিভিন্ন শহরের হাসপাতালে পালিয়ে বেড়াতে হয়। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর তৎকালীন সময়ে পুলিশ প্রশাসন মামলা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

সম্প্রতি খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি বি এম মাহিম বর্তমানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই-এর মতো সংবেদনশীল দপ্তরে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় এই মামলার আসামিরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারা অবিলম্বে এই পক্ষপাতদুষ্ট ফাইনাল রিপোর্ট বাতিল করার জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এনএসআইতে কর্মরত প্রধান আসামি বি এম মাহিমকে অবিলম্বে চাকরি থেকে অপসারণ, পুলিশের দাখিল করা মিথ্যা ফাইনাল রিপোর্ট বাতিল এবং মামলার তদন্তভার সিআইডি কিংবা পিবিআইয়ের মতো নিরপেক্ষ সংস্থার কাছে হস্তান্তর। একই সঙ্গে জড়িত সমস্ত চিহ্নিত ক্যাডারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং পক্ষপাতমূলক চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রদানকারী তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।