রাজধানীর গুলশানে বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত মদ ও বিয়ার সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কাস্টমস ইনটেলিজেন্স ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ টিম এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়ে, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ওয়্যারহাউজটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানকালে যৌথ দলের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্টার খাতা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদিত ডিজিটাল সফটওয়্যার এবং গুদামে মজুত থাকা পণ্যের বর্তমান স্টক গভীরভাবে তলব করে মিলিয়ে দেখেন। এ সময় সফটওয়্যারে পণ্য খালাস হয়ে গেছে বলে তথ্য উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে গুদামের ভেতরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিয়ার ও হুইস্কি সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া চার তলা বিশিষ্ট ওই ভবনের দুটি ফ্লোর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে প্রমাণ মেলে।
তদন্তে সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি ধরা পড়ে হাইনেকেন বিয়ারের একটি বড় চালানের ক্ষেত্রে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তদন্তকারী দল। প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল নথিপত্র অনুযায়ী গত ৩ সেপ্টেম্বর দুই হাজার ২৫০ কার্টন বিয়ার ওয়্যারহাউজে প্রবেশ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তল্লাশিকালে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আমদানির কাগজে কলমে পণ্যগুলো গুদামে দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলো আগেই চোরাই পথে বা খোলা বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের এই কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজটির পরিচালনায় রয়েছে শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবার। এর আগেও এই ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন ফুওয়াং ক্লাব ও কয়লা রেস্টুরেন্টের মতো প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ মানিকদীতে একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গেও এই পরিবারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।



































