ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে গিয়ে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo মাদকের টাকার জন্য মাকে উত্ত্যক্ত করতেন তরুণ, ১০ মাস ১০ দিনের কারাদণ্ড Logo যাকে কাশ্মীরে হত্যার দাবি করেছিল ভারত, তাঁকেই মিডিয়ার সামনে হাজির করল পাকিস্তান Logo কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল অ্যাম্বুলেন্স Logo বসতভিটা নেই, শিক্ষক নিয়োগে বাদ ইবির সাবেক শিক্ষার্থী Logo জীবনের প্রাপ্তি নিয়ে কোনো হিসাব-নিকাশ করার প্রয়োজন বোধ করি না Logo শৃঙ্খলা ফেরাতে হার্ডলাইনে প্রধানমন্ত্রী Logo স্বামী খুঁজতে গুগল ফরম, আবেদন ২৪০ পুরুষের Logo লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, তিন দিনে আটক ৫৪৭ Logo ৯ হাজার সেনাসহ মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যাকে কাশ্মীরে হত্যার দাবি করেছিল ভারত, তাঁকেই মিডিয়ার সামনে হাজির করল পাকিস্তান

কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত এক পাকিস্তানি নাগরিককে জীবিত অবস্থায় সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করেছে পাকিস্তান। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসা নামের ওই ব্যক্তি কাশ্মীরের কোরাগ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং একে ভারতের একটি সাজানো ফলস-ফ্ল্যাগ অভিযান বলে অভিহিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ভারতীয় প্রচারণার একটি বিস্তারিত সময়রেখা তুলে ধরা হয়। সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিন্নার কোর ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল যে, যৌথ অভিযানে লস্কর-ই-তৈয়বার জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও পাকিস্তানি স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ আসিফ নিহত হয়েছেন। এমনকি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এই দাবি নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি সফল অভিযানের কথা প্রচার করেছিল। ভারতীয় গণমাধ্যমে আসিফকে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কাশ্মীরের একাধিক বড় সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযুক্ত করা হয়।

এই সমস্ত ভারতীয় দাবি ও সংবাদ প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ ও উপহাস করেন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ছয় মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর এই মিথ্যা সাফল্য সাজানো হয়েছে এবং ভারতীয় প্রচার মাধ্যমগুলোর এমন লজ্জাজনক প্রচারণা হাস্যকর। এরপর সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে মোহাম্মদ আসিফকে সশরীরে হাজির করা হয় এবং তাঁকে সুপারম্যান হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়। উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে আসিফ জানান যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নিজের বাড়িতেই বসবাস করছেন।

সংযুক্ত ভারতীয় নম্বর থেকে আসা বিভিন্ন ফোনকল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে নিজের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন বলে জানান মোহাম্মদ আসিফ। তিনি বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যম তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে কাশ্মীরে শহীদ হিসেবে প্রচার করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসম্মানজনক। আসিফ আরও জানান যে তিনি ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ ১৮ বছর এসএসজিতে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে নিজের পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই ধরনের মিথ্যা প্রপাগান্ডার তীব্র নিন্দা জানান।

জনপ্রিয়

সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে গিয়ে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

যাকে কাশ্মীরে হত্যার দাবি করেছিল ভারত, তাঁকেই মিডিয়ার সামনে হাজির করল পাকিস্তান

প্রকাশিত ১০:৪৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত এক পাকিস্তানি নাগরিককে জীবিত অবস্থায় সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করেছে পাকিস্তান। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে মোহাম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মূসা নামের ওই ব্যক্তি কাশ্মীরের কোরাগ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং একে ভারতের একটি সাজানো ফলস-ফ্ল্যাগ অভিযান বলে অভিহিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ভারতীয় প্রচারণার একটি বিস্তারিত সময়রেখা তুলে ধরা হয়। সম্প্রতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিন্নার কোর ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল যে, যৌথ অভিযানে লস্কর-ই-তৈয়বার জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও পাকিস্তানি স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ আসিফ নিহত হয়েছেন। এমনকি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এই দাবি নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি সফল অভিযানের কথা প্রচার করেছিল। ভারতীয় গণমাধ্যমে আসিফকে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কাশ্মীরের একাধিক বড় সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযুক্ত করা হয়।

এই সমস্ত ভারতীয় দাবি ও সংবাদ প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ ও উপহাস করেন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ছয় মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর এই মিথ্যা সাফল্য সাজানো হয়েছে এবং ভারতীয় প্রচার মাধ্যমগুলোর এমন লজ্জাজনক প্রচারণা হাস্যকর। এরপর সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে মোহাম্মদ আসিফকে সশরীরে হাজির করা হয় এবং তাঁকে সুপারম্যান হিসেবে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়। উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে আসিফ জানান যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নিজের বাড়িতেই বসবাস করছেন।

সংযুক্ত ভারতীয় নম্বর থেকে আসা বিভিন্ন ফোনকল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে নিজের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন বলে জানান মোহাম্মদ আসিফ। তিনি বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যম তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে কাশ্মীরে শহীদ হিসেবে প্রচার করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসম্মানজনক। আসিফ আরও জানান যে তিনি ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ ১৮ বছর এসএসজিতে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে নিজের পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের এই ধরনের মিথ্যা প্রপাগান্ডার তীব্র নিন্দা জানান।