ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাফারি পার্কের চুরি হওয়া লেমুর ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তদন্ত চলছে: পরিবেশমন্ত্রী Logo সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন Logo আজই আবেদন করুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ালটনে নিয়োগ Logo সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক: খাদ্যমন্ত্রী Logo দক্ষিণ কোরিয়ার জাদুঘরে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য Logo দারিদ্র্যের ফিরে আসা: উন্নয়নের গল্পে ফাঁক কোথায় Logo এক বছরে মুনাফা বেড়ে দ্বিগুণ, মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে এপেক্স ফুডস Logo মুকেশ আম্বানিকে এবার ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বললেন ইলন মাস্ক Logo ‘তারেক রহমান, আপনার দলের ধ্বংস নিশ্চিত’—সরাইলে বিএনপি নেতার ফেসবুক পোস্ট Logo প্রণোদনা তহবিলের ঋণে গতি কম

মুকেশ আম্বানিকে এবার ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বললেন ইলন মাস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা চালুর লাইসেন্স পাওয়াকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ধারাবাহিক পোস্টে রিলায়েন্স গ্রুপের প্রধান মুকেশ আম্বানির বিরুদ্ধে একচেটিয়া বাজার বজায় রাখার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী। তার দাবি, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ধনকুবের প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হতে বাধা দিচ্ছেন এবং স্টারলিঙ্কের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আটকে রেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নীতি ও শিল্পপতির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন এই মার্কিন ধনকুবের।

এক্সে করা এক পোস্টে ইলন মাস্ক কটাক্ষ করে মুকেশ আম্বানিকে ভারতের প্রকৃত শাসক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং স্টারলিঙ্ককে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তার মতে, ভারতের অনেক দুর্গম ও বঞ্চিত অঞ্চলে এখনও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছায়নি, যার কারণে সেখানকার সাধারণ মানুষ ও শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে। স্টারলিঙ্ক ওইসব অঞ্চলে সেবা চালু করলে শিক্ষার প্রসার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বৈশ্বিক বাজারের সুযোগ তৈরি হতো বলে তিনি মনে করেন। এর আগে তিনি বিশ্বজুড়ে স্টারলিঙ্কের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন যে, সমস্ত আইন ও শর্ত পূরণ করার পরও কেন ভারতে লাইসেন্স পেতে দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে।

ইলন মাস্কের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে মাস্কের তোলা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দেশের টেলিযোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সেবা খাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বৈষম্যহীন নীতি অনুসরণ করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নীতি প্রণয়ন করা হয় না এবং প্রচলিত আইন মেনেই প্রতিটি আবেদন যাচাই করা হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা জিএমপিসিএস লাইসেন্স পাওয়ার প্রতিযোগিতায় ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্কের পাশাপাশি সুনীল ভারতী মিত্তালের ওয়ানওয়েব এবং মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস মাঠে রয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে, তবুও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার আগে তাদের কঠোর নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও তরঙ্গ বরাদ্দের প্রক্রিয়া পার হতে হবে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আইনি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই কেবল চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করা হবে।

জনপ্রিয়

সাফারি পার্কের চুরি হওয়া লেমুর ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তদন্ত চলছে: পরিবেশমন্ত্রী

মুকেশ আম্বানিকে এবার ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বললেন ইলন মাস্ক

প্রকাশিত ১০:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা চালুর লাইসেন্স পাওয়াকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ধারাবাহিক পোস্টে রিলায়েন্স গ্রুপের প্রধান মুকেশ আম্বানির বিরুদ্ধে একচেটিয়া বাজার বজায় রাখার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী। তার দাবি, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ধনকুবের প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হতে বাধা দিচ্ছেন এবং স্টারলিঙ্কের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আটকে রেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নীতি ও শিল্পপতির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন এই মার্কিন ধনকুবের।

এক্সে করা এক পোস্টে ইলন মাস্ক কটাক্ষ করে মুকেশ আম্বানিকে ভারতের প্রকৃত শাসক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং স্টারলিঙ্ককে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তার মতে, ভারতের অনেক দুর্গম ও বঞ্চিত অঞ্চলে এখনও মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা পৌঁছায়নি, যার কারণে সেখানকার সাধারণ মানুষ ও শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে। স্টারলিঙ্ক ওইসব অঞ্চলে সেবা চালু করলে শিক্ষার প্রসার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বৈশ্বিক বাজারের সুযোগ তৈরি হতো বলে তিনি মনে করেন। এর আগে তিনি বিশ্বজুড়ে স্টারলিঙ্কের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন যে, সমস্ত আইন ও শর্ত পূরণ করার পরও কেন ভারতে লাইসেন্স পেতে দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে।

ইলন মাস্কের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে মাস্কের তোলা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দেশের টেলিযোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সেবা খাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বৈষম্যহীন নীতি অনুসরণ করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে নীতি প্রণয়ন করা হয় না এবং প্রচলিত আইন মেনেই প্রতিটি আবেদন যাচাই করা হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা জিএমপিসিএস লাইসেন্স পাওয়ার প্রতিযোগিতায় ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্কের পাশাপাশি সুনীল ভারতী মিত্তালের ওয়ানওয়েব এবং মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস মাঠে রয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে, তবুও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার আগে তাদের কঠোর নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও তরঙ্গ বরাদ্দের প্রক্রিয়া পার হতে হবে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আইনি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই কেবল চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রদান করা হবে।