ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধার: বছরে লাগবে ৬০ হাজার কোটি টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকিং খাতকে পুনরায় শক্তিশালী ও স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যে, ব্যাংক খাতের এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত প্রতিবছর জাতীয় বাজেট থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার জোগান দিতে হবে। বিগত সময়ে আর্থিক খাতে সংঘটিত বড় ধরনের অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে দেশের ব্যাংকগুলো বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা থেকে উত্তরণে এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্প্রতি রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআরে লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে গভর্নর এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। সেখানে এক শিক্ষার্থীর করা প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে জানান যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এই খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ বেহাত বা লুট হয়ে গিয়েছিল। সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ তুলতে না পারার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পেছনে এই সুগভীর আর্থিক কেলেঙ্কারী ও অব্যবস্থাপনা দায়ী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যাংক খাত থেকে বের হয়ে যাওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বিশালতা বোঝাতে গভর্নর উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাজেটের ৬০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে খুব সহজেই দেশের প্রায় দুই কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তা দেওয়া যেত কিংবা দুটি পদ্মা সেতুর মতো বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। কিন্তু দুর্নীতিবাজদের ব্যক্তিগত অপরাধের আর্থিক মাশুল এখন দেশের সাধারণ মানুষকে পরোক্ষভাবে বহন করতে হচ্ছে। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট মেটাতে বর্তমানে জনগণের করের টাকাই সরকারের পক্ষ থেকে জোগান দিতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ইতিমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনার কাজ চলছে। এছাড়া লুণ্ঠিত সম্পদ পুনরুদ্ধার করে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং ও লেনদেন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গভর্নর আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেন বা পিটুপি সেবা চালুর ঘোষণা দেন। সারা দেশে এই ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের কর আদায় প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্তমানে দেশের নিম্নমুখী কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এই প্রযুক্তিভিত্তিক লেনদেন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

আর্সেনাল-চেলসির জয়ের রাতে ইউনাইটেডের হোঁচট

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধার: বছরে লাগবে ৬০ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত ০৩:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকিং খাতকে পুনরায় শক্তিশালী ও স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যে, ব্যাংক খাতের এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত প্রতিবছর জাতীয় বাজেট থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার জোগান দিতে হবে। বিগত সময়ে আর্থিক খাতে সংঘটিত বড় ধরনের অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে দেশের ব্যাংকগুলো বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা থেকে উত্তরণে এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্প্রতি রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআরে লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে গভর্নর এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন। সেখানে এক শিক্ষার্থীর করা প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে জানান যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এই খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ বেহাত বা লুট হয়ে গিয়েছিল। সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ তুলতে না পারার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পেছনে এই সুগভীর আর্থিক কেলেঙ্কারী ও অব্যবস্থাপনা দায়ী বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যাংক খাত থেকে বের হয়ে যাওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বিশালতা বোঝাতে গভর্নর উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বাজেটের ৬০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে খুব সহজেই দেশের প্রায় দুই কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তা দেওয়া যেত কিংবা দুটি পদ্মা সেতুর মতো বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। কিন্তু দুর্নীতিবাজদের ব্যক্তিগত অপরাধের আর্থিক মাশুল এখন দেশের সাধারণ মানুষকে পরোক্ষভাবে বহন করতে হচ্ছে। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট মেটাতে বর্তমানে জনগণের করের টাকাই সরকারের পক্ষ থেকে জোগান দিতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ইতিমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনার কাজ চলছে। এছাড়া লুণ্ঠিত সম্পদ পুনরুদ্ধার করে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং ও লেনদেন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গভর্নর আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেন বা পিটুপি সেবা চালুর ঘোষণা দেন। সারা দেশে এই ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের কর আদায় প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্তমানে দেশের নিম্নমুখী কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এই প্রযুক্তিভিত্তিক লেনদেন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।