ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকার ফুটপাত দখল ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও গোলটেবিল বৈঠকের পরেও ফুটপাতগুলো অবৈধ দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হয় না। সম্প্রতি মিরপুর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সরকারি গাড়িতে আগুন দেওয়ার মতো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই মোহাম্মদপুরেও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তবে অতীতে এ ধরনের উচ্ছেদ সাময়িক হওয়ায় নগরবাসী একে নিছক ‘উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা’ হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফুটপাতকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী কালো অর্থনীতি ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন চক্র। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা বিনা বিনিয়োগে এই দখল বাণিজ্য চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে। এই অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ চলে যায় সন্ত্রাসী চক্রের হাতে, যা মাদক বিস্তার ও অর্থপাচারের মতো অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় কিশোর গ্যাং এবং লাইনম্যানদের সমন্বয়ে গঠিত দীর্ঘ এক নেটওয়ার্ক এই অবৈধ বাণিজ্যের নেপথ্যে কাজ করে। ফলে ক্ষমতা বা পালাবদল ঘটলেও ফুটপাতের চিত্র বা নিয়ন্ত্রক বদলায় না, শুধু হাতবদল হয়।
হকারদের উচ্ছেদের সময় প্রায়ই মানবতার দোহাই দেওয়া হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে গভীর স্বার্থের খেলা। বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অভাবকে মানবিক কারণে সামনে এনে ফুটপাত দখলের বিষয়টি একপ্রকার বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অথচ এই মানবিকতার আড়ালেই চলতে থাকে কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও অবৈধ লেনদেন। এই কালো অর্থনীতির কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হলেও নেপথ্যের কুশীলবরা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে লোক দেখানো তৎপরতা চালানো হলেও মূল সমস্যার গভীরে হাত দেওয়া হয় না।
ফুটপাত দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা নগর নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। একটি ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে প্রশাসনকে যেভাবে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়, তাতে সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার চিত্রই ফুটে ওঠে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ফুটপাতকে সম্পূর্ণ রাজনীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত করতে না পারলে কেবল ঘোষণায় এই সংকটের অবসান ঘটা সম্ভব নয়। তাই ফুটপাত ঘিরে গড়ে ওঠা এই প্রভাবশালী চক্র ভাঙতে না পারলে নগরবাসীর সুশৃঙ্খল ফুটপাতের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।






































