ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সরকার চাইছে ঐক্য, তারা ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক: দেশের সব মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় একটি মহল নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ধর্মসভা পূজামণ্ডপে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। অতীতে মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে বিভাজন তৈরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, একইভাবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকেও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা সফল হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কারও কোনো নির্দিষ্ট দাবি বা বক্তব্য থাকলে তা রাজপথে বিশৃঙ্খলা না করে জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, জনগণ তাদের সঠিক প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে এবং সেখানে বিতর্কের মাধ্যমেই কেবল রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, সরকার সবার জন্যই সমানভাবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী রংপুর মহানগরীর জন্য সম্প্রতি একনেক সভায় বড় অঙ্কের বরাদ্দের কথা জানান। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সফল করতে সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অবদানের কথা স্মরণ করেন সরকারপ্রধান। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য বজায় রেখে আগামী দিনে সব মত ও পথের মানুষকে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করার পরিবেশ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও মন্দির কমিটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তিনি পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর এবং দিনটিতে তিনি আরও কয়েকটি মহানগরীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সবশেষে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি দেশবাসীকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার সঙ্গে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের আহ্বান জানান।

জনপ্রিয়

ভ্রমণের সময় ওষুধ রাখছেন কোথায়?

সরকার চাইছে ঐক্য, তারা ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: তারেক রহমান

প্রকাশিত ০২:০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: দেশের সব মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় একটি মহল নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ধর্মসভা পূজামণ্ডপে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। অতীতে মুক্তিযুদ্ধের সময় যেভাবে বিভাজন তৈরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, একইভাবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকেও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা সফল হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কারও কোনো নির্দিষ্ট দাবি বা বক্তব্য থাকলে তা রাজপথে বিশৃঙ্খলা না করে জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, জনগণ তাদের সঠিক প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে এবং সেখানে বিতর্কের মাধ্যমেই কেবল রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি, সরকার সবার জন্যই সমানভাবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী রংপুর মহানগরীর জন্য সম্প্রতি একনেক সভায় বড় অঙ্কের বরাদ্দের কথা জানান। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সফল করতে সব ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অবদানের কথা স্মরণ করেন সরকারপ্রধান। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য বজায় রেখে আগামী দিনে সব মত ও পথের মানুষকে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করার পরিবেশ তৈরির ওপর তিনি জোর দেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও মন্দির কমিটির নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তিনি পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর এবং দিনটিতে তিনি আরও কয়েকটি মহানগরীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সবশেষে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি দেশবাসীকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার সঙ্গে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের আহ্বান জানান।