আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক চীনা নাগরিকের বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি নগরীর এফ-৭/১ সেক্টরের একটি আবাসিক ভবনে এই অপরাধ সংঘটিত হয় এবং এ বিষয়ে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন সংবাদ প্রকাশ করে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীরা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে এই ডাকাতি করেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এটি চীনা নাগরিকদের ওপর সংঘটিত চতুর্থ ডাকাতির ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রাতের বেলা পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি ওই বাড়ির গেটে গিয়ে দিনের নিরাপত্তাকর্মী ও চালককে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। বাইরে একটি পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল যেখানে ঘূর্ণায়মান বাতি ও সশস্ত্র ব্যক্তিরা অবস্থান করছিলেন, যাদের বেশিরভাগই পুলিশের পোশাকে ছিলেন। এরপর রক্ষী ও চালককে গাড়িসহ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করিয়ে অপরাধীরা একটি জানালা দিয়ে ভবনে ঢোকেন। অস্ত্রধারীরা দুই চীনা নাগরিক ও তাদের দুই ভৃত্যকে ড্রয়িং রুমে জিম্মি করে নগদ ২০ লাখ রুপি এবং একটি দামি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ এই ঘটনার আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও ইসলামাবাদে কর্মরত তিন পুলিশ সদস্য আরেকটি বড় অপরাধ চক্রের সঙ্গে ধরা পড়েছিলেন। ১৩ সেপ্টেম্বর সংঘটিত সেই ডাকাতিতে তারা জি-১০/৪ সেক্টরে এক চীনা নাগরিকের বাসা থেকে ৮০ লাখ রুপি লুটে নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলোর তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর পরপরই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী শহরে বিদেশি নাগরিকদের বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে পুলিশের পোশাকে এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড় প্রশ্ন তুলেছে। বারবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হলেও রাজধানীতে অপরাধ দমনে আরও কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।





































