শিক্ষা ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষকরা। বাড়িভিত্তিক অ্যাসাইনমেন্টের পরিমাণ কমিয়ে তারা ক্লাসে খাতা-কলমে লেখা, মৌখিক পরীক্ষা এবং সৃজনশীল অনুশীলনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের মুখে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা পাঠ মূল্যায়নের এই নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। জেনারেটিভ এআইয়ের প্রভাবে পড়াশোনার প্রচলিত নিয়মকানুনগুলো প্রায় ফিকে হয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রযুক্তির কেন্দ্র স্যান ফ্রান্সিসকোর এক স্কুলের শিক্ষিকা ট্রিস্টেন চ্যাং বাড়ি বসে রচনা বা অনুচ্ছেদ লেখার প্রথা বাতিল করে ক্লাসে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীরা চরিত্র, পটভূমি ও মূলভাব নিয়ে করা ১৫টি প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দিচ্ছে, যা বড়জোর পাঁচ মিনিট সময় নেয়। নিউ ইয়র্কের গণিত শিক্ষক ববসন ওয়াং বাড়িতে কাজের চাপ কমিয়ে ক্লাসে অনুশীলনের সুযোগ বাড়িয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা কীভাবে অংক কষছে তা তিনি সরাসরি দেখতে পারেন। শিকাগোর শিক্ষক রেক্স ওভাল ক্লাসে ল্যাপটপের ব্যবহার প্রায় ৯০ শতাংশ দিন বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের খাতায় লেখার অভ্যাস করাচ্ছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এআই ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট বিভাজন থাকলেও অনেক শিক্ষক একক সিদ্ধান্তে এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। কেউ ক্লাসে এআই যোগ করতে চাইলেও অনেকে এর ব্যবহার সীমিত রাখতে চান। স্যান ফ্রান্সিসকোর ইংরেজি শিক্ষক রাসটি শেব জানান, চাপ অনুভব করলেই শিক্ষার্থীরা বাড়িতে এআইয়ের শরণাপন্ন হয়, যা ঠেকাতে তিনি ক্লাসেই লেখার জন্য বেশি সময় দিচ্ছেন। নিউ ইয়র্কের শিক্ষিকা মেগান হাইল্যান্ড বাথরুমে যাওয়ার সময় ফোন জমা রাখার নিয়ম চালু করেছেন এবং ক্লাসের পারফরম্যান্সের ওপর গ্রেড বেশি দিচ্ছেন।
এআইকে টেক্কা দিতে শিক্ষকরা গতানুগতিক বা সহজে অনুমেত্র প্রশ্ন করা বন্ধ করে নতুন ব্যাখ্যা ও সৃজনশীল বিষয় বেছে নিচ্ছেন। ব্রঙ্কসের শিক্ষক পিয়ান রকফেল্ড এমন সব প্রশ্ন তৈরি করছেন যার উত্তর এআই সহজে দিতে পারে না এবং অর্থ দিয়ে পড়ার মতো গবেষণাপত্র ব্যবহার করছেন। হাইল্যান্ড ‘এ টেল অফ টু সিটিজ’ উপন্যাসের মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের রান্নার প্রদর্শনীভিত্তিক কাজের মতো অভিনব উপায় দিয়েছেন। মহামারির পর অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও ডিজিটাল মাধ্যমের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে অনেক স্কুল এখন প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন করে মূল্যায়ন করছে।
শিক্ষার ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিতর্ক ও গবেষণা রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এআই টিউটরে শেখার আগ্রহ বাড়ার কথা বলা হলেও, এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের সমীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের চিন্তা করার ক্ষমতা কম দেখা গেছে। তবুও র্যান্ডের জরিপ অনুযায়ী পড়াশোনায় এআইয়ের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। তবে কিছু শিক্ষক মনে করেন, শিক্ষার্থীরা আসলেই সমালোচনামূলক চিন্তা করতে পারছে কি না, তা বোঝার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো স্কুলের ভেতরের সরাসরি কাজ মূল্যায়ন করা।





































