ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আদিম পাথারিয়া পাহাড়ের আলিঙ্গনে

পর্যটন ডেস্ক: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি বছর বয়স্ক সীমান্তঘেঁষা আদিম পাথারিয়া পাহাড়ে এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। দে-ছুট ভ্রমণ সংগঠনের একটি দল রাতের গাড়িতে ডিমাই বাজার পৌঁছানোর পর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে পাহাড়ি অরণ্যে প্রবেশ করে। উঁচু পাহাড়, গভীর অরণ্য, ঝিঁঝি পোকার শব্দ আর বানর-উল্লুকের হাঁকডাকে ঘেরা এই এলাকায় এক জাদুকরি পরিবেশ বিরাজ করছে। ঝিরির স্বচ্ছ পানির কলকল শব্দ এবং প্রকৃতির এমন মায়াবী রূপ ভ্রমণকারীদের সহজেই মোহিত করে তোলে।

ভ্রমণ পরিকল্পনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও গাইডের সহায়তায় দলটি আহমদপুর হয়ে ডিমাই গ্রাম ও মোকামপুঞ্জি পেরিয়ে পাথারিয়া পাহাড়ের জঙ্গলে পৌঁছায়। যাত্রার শুরুতেই তাদের চোখে পড়ে ঝেরঝেরি ঝরনা, যার বুনো পরিবেশে উঁচু পাহাড় থেকে ছড়িয়ে পড়া পানির সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ে। সেখানে জলকেলি শেষে তারা এগিয়ে যান আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান পানজুমাই ঝরনার দিকে। এর শ্বেতশুভ্র শীতল পানিতে ভিজে ক্লান্তি দূর করে তারা পিচ্ছিল পাথুরে বোল্ডার পেরিয়ে ঝরনার ওপরে উঠে যান।

পানজুমাই ঝরনার ওপরের অংশে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বাথটাবের মতো গলাসমান টলটলে পানিতে তারা সাঁতার কাটেন। এরপর পাহাড়ের সরু পথ ধরে ওপরে ওঠার সময় শত শত টাইগার জোঁকের বাধার মুখে গাইডদের পরামর্শে তারা সে পথ এড়িয়ে চলেন। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে দলটি শান্ত ও অবিরাম ধারার পানবাগিছার ডর ঝরনার প্রান্তরে পৌঁছায়। সেখানে ঝরনার শান্ত পরিবেশের পর টিপটিপ বৃষ্টি ও পিচ্ছিল মাটি পেরিয়ে তারা সঞ্জীত ঝরনার সান্নিধ্যে উপস্থিত হন।

সঞ্জীত ঝরনার গায়ে শরীর মিলিয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর সন্ধ্যার দিকে তারা আরেকটি পাহাড়ের ওপর থাকা জুমঘরে আশ্রয় নেন। জুমঘরটি অগোছালো থাকলেও লোকালয়ে ফেরার সুযোগ না থাকায় রাতটি সেখানেই কাটে। পরদিন ভোরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে উল্লুকের হাঁকডাক শোনার পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অন্যরকম স্বাধীনতা উপভোগ করেন তারা। এরপর আতরবাগান ছাড়িয়ে কাঁকড়াছড়া ঝরনার প্রান্তরে পৌঁছে তারা পাহাড়ি ঝিরিপথে নানা বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাকা ডুমুর দেখতে পান।

জনপ্রিয়

শেরপুরে ‘ফাতেমা রানীর তীর্থস্থানে’ পুণ্যার্থীদের আলোক শোভাযাত্রা

আদিম পাথারিয়া পাহাড়ের আলিঙ্গনে

প্রকাশিত ০৯:৩৭:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পর্যটন ডেস্ক: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি বছর বয়স্ক সীমান্তঘেঁষা আদিম পাথারিয়া পাহাড়ে এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। দে-ছুট ভ্রমণ সংগঠনের একটি দল রাতের গাড়িতে ডিমাই বাজার পৌঁছানোর পর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে পাহাড়ি অরণ্যে প্রবেশ করে। উঁচু পাহাড়, গভীর অরণ্য, ঝিঁঝি পোকার শব্দ আর বানর-উল্লুকের হাঁকডাকে ঘেরা এই এলাকায় এক জাদুকরি পরিবেশ বিরাজ করছে। ঝিরির স্বচ্ছ পানির কলকল শব্দ এবং প্রকৃতির এমন মায়াবী রূপ ভ্রমণকারীদের সহজেই মোহিত করে তোলে।

ভ্রমণ পরিকল্পনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও গাইডের সহায়তায় দলটি আহমদপুর হয়ে ডিমাই গ্রাম ও মোকামপুঞ্জি পেরিয়ে পাথারিয়া পাহাড়ের জঙ্গলে পৌঁছায়। যাত্রার শুরুতেই তাদের চোখে পড়ে ঝেরঝেরি ঝরনা, যার বুনো পরিবেশে উঁচু পাহাড় থেকে ছড়িয়ে পড়া পানির সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ে। সেখানে জলকেলি শেষে তারা এগিয়ে যান আরেকটি আকর্ষণীয় স্থান পানজুমাই ঝরনার দিকে। এর শ্বেতশুভ্র শীতল পানিতে ভিজে ক্লান্তি দূর করে তারা পিচ্ছিল পাথুরে বোল্ডার পেরিয়ে ঝরনার ওপরে উঠে যান।

পানজুমাই ঝরনার ওপরের অংশে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বাথটাবের মতো গলাসমান টলটলে পানিতে তারা সাঁতার কাটেন। এরপর পাহাড়ের সরু পথ ধরে ওপরে ওঠার সময় শত শত টাইগার জোঁকের বাধার মুখে গাইডদের পরামর্শে তারা সে পথ এড়িয়ে চলেন। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে দলটি শান্ত ও অবিরাম ধারার পানবাগিছার ডর ঝরনার প্রান্তরে পৌঁছায়। সেখানে ঝরনার শান্ত পরিবেশের পর টিপটিপ বৃষ্টি ও পিচ্ছিল মাটি পেরিয়ে তারা সঞ্জীত ঝরনার সান্নিধ্যে উপস্থিত হন।

সঞ্জীত ঝরনার গায়ে শরীর মিলিয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর সন্ধ্যার দিকে তারা আরেকটি পাহাড়ের ওপর থাকা জুমঘরে আশ্রয় নেন। জুমঘরটি অগোছালো থাকলেও লোকালয়ে ফেরার সুযোগ না থাকায় রাতটি সেখানেই কাটে। পরদিন ভোরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে উল্লুকের হাঁকডাক শোনার পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অন্যরকম স্বাধীনতা উপভোগ করেন তারা। এরপর আতরবাগান ছাড়িয়ে কাঁকড়াছড়া ঝরনার প্রান্তরে পৌঁছে তারা পাহাড়ি ঝিরিপথে নানা বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাকা ডুমুর দেখতে পান।