জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠে আয়োজিত সাত দিনব্যাপী জাতীয় যুব মেলা স্থগিত করা হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এবং নির্ধারিত স্থানে আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানী ঢাকায় মেলা বন্ধ থাকলেও দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে নির্ধারিত স্থানে মেলা আয়োজনের প্রতিবাদে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন এবং সেখানে কিছু স্থাপনা ভাঙচুর চালান। মূলত নির্ধারিত স্থান নিয়ে জটিলতা ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠির পরেই জাতীয় পর্যায়ের এই মেলা স্থগিত করার ঘোষণা আসে। তবে মেলা স্থগিত হলেও জাতীয় যুব দিবসের মূল অনুষ্ঠান, চাকরি মেলা এবং অন্যান্য নির্ধারিত কর্মসূচি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ১ নভেম্বর ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত হবে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মূল অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সফল আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের জাতীয় যুব পুরস্কার প্রদান করা হবে। এছাড়া দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য র্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, রক্তদান এবং যুবঋণ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এবারের যুব দিবসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ৫৫টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলার মাধ্যমে কয়েক হাজার কর্মপ্রত্যাশী তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি দেশজুড়ে ১২ হাজার পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং ও বিনা জামানতে ঋণ বিতরণের বিভিন্ন তথ্যও তুলে ধরা হয়।
সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূর করতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যুবসমাজকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকারের এই উদ্যোগগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



































