ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, সামনে লিখতে হবে যেভাবে Logo দুর্দান্ত গোল করে ও করিয়ে মায়ামিকে চ্যাম্পিয়ন্স কাপে নিলেন মেসি Logo এই ৫ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ এনভিডিয়ার হাতে Logo রাকসু শিক্ষার্থীদের চোখে কতটা সফল Logo ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন পেলেন যারা Logo সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহত, কী ঘটেছিল সেখানে? Logo শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মুরাসু’, আঘাত হানতে পারে যেসব এলাকায় Logo গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ‘উল্লাস ইন্টার ক্লাব স্পোর্টসফেস্ট’ উদ্বোধন Logo পূবালী ব্যাংকের গুলশান সার্কেল-১ শাখা এখন ইসলামী ব্যাংকিং শাখা Logo স্মৃতিতে তৌফিক: একজন পরামর্শক, একজন বন্ধু

রাকসু শিক্ষার্থীদের চোখে কতটা সফল

ক্যাম্পাস ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের তীব্র দাবির মুখে প্রায় সাড়ে তিন দশক বিরতির পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ২৩টি পদের বেশিরভাগটিতে জয়লাভ করে এবং এক বছর মেয়াদি এই সংসদের মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিজয়ী প্যানেল ১২ মাসে ২৪টি সংস্কারসহ শিক্ষা, আবাসন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ।

নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা, আবাসন সংকট দূরীকরণ এবং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের জোরালো অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানির ফিল্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। পাশাপাশি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগেও তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে গবেষণা বৃত্তির আওতায় কিছু মাস্টার্স শিক্ষার্থীকে থিসিস প্রণোদনা এবং এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো কিছু কাজ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ‘৭টি হ্যাঁ’ ও ‘৭টি না’ কর্মসূচির আওতায় হল দখল, সিট-বাণিজ্য ও ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা পুরোপুরি রক্ষিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় রাকসু ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় এসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ছাড়া কুইক রেসপন্স টিম গঠন কিংবা ক্যাম্পাস ডিজিটাইজেশনের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিগুলোও দৃশ্যমানভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, বর্তমান ছাত্র সংসদ কিছু দৃশ্যমান কাজ করলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক ও দৈনন্দিন সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্রদল ও বাম জোটের প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে ছাত্র প্রতিনিধিদের দাবি, প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বেশি কাজ করার চেষ্টা করেছেন।

জনপ্রিয়

মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, সামনে লিখতে হবে যেভাবে

রাকসু শিক্ষার্থীদের চোখে কতটা সফল

প্রকাশিত ০৯:৫২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ক্যাম্পাস ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের তীব্র দাবির মুখে প্রায় সাড়ে তিন দশক বিরতির পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ২৩টি পদের বেশিরভাগটিতে জয়লাভ করে এবং এক বছর মেয়াদি এই সংসদের মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিজয়ী প্যানেল ১২ মাসে ২৪টি সংস্কারসহ শিক্ষা, আবাসন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ।

নির্বাচনী ইশতেহারে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা, আবাসন সংকট দূরীকরণ এবং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের জোরালো অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানির ফিল্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। পাশাপাশি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসিকতার রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগেও তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে গবেষণা বৃত্তির আওতায় কিছু মাস্টার্স শিক্ষার্থীকে থিসিস প্রণোদনা এবং এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো কিছু কাজ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ‘৭টি হ্যাঁ’ ও ‘৭টি না’ কর্মসূচির আওতায় হল দখল, সিট-বাণিজ্য ও ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা পুরোপুরি রক্ষিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় রাকসু ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় এসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ছাড়া কুইক রেসপন্স টিম গঠন কিংবা ক্যাম্পাস ডিজিটাইজেশনের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিগুলোও দৃশ্যমানভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, বর্তমান ছাত্র সংসদ কিছু দৃশ্যমান কাজ করলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক ও দৈনন্দিন সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্রদল ও বাম জোটের প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। অন্যদিকে ছাত্র প্রতিনিধিদের দাবি, প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বেশি কাজ করার চেষ্টা করেছেন।