জাতীয় ডেস্ক: ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়াতে আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই একটি নতুন সৌরবিদ্যুৎ আইন পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর একটি গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশে নবায়নযোগ্য ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনকে ইতোমধ্যে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব না হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। একটি দায়িত্বশীল নির্বাচিত সরকারের মূল কর্তব্য হলো নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।
জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন যে, বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য নতুন করে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এফএসআরইউ টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই টার্মিনালগুলো চালু হলে গ্যাস সরবরাহের চলমান ঘাটতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভালুকায় ইতিমধ্যে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করছে। স্থানীয় পর্যায়ে এই ব্যবস্থা প্রসারের জন্য প্রায় আট হাজার ছয়শত সার্ভিস প্রোভাইডারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের এই ব্যাপক প্রসারের ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জ্বালানিমন্ত্রী। বাজারে বিক্রি হওয়া সোলার প্যানেলের গুণগত মান বজায় রাখতে সরকার অত্যন্ত সচেতন ও সক্রিয় রয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষার্থে এই পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারিও বজায় রাখা হবে। উদ্ভূত যেকোনো চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে নাগরিকদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।





















