ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন পেলেন যারা

জাতীয় ডেস্ক: নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া অর্থ পেয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান যে নির্দিষ্ট দিনে সকাল থেকে অনেক কর্মচারীর মোবাইল ফোনে বর্ধিত বেতন জমার এসএমএস আসে। দেশের প্রায় চৌদ্দ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের অধিকাংশই এই নতুন সুবিধা পেয়েছেন। তবে যেসব কর্মীর পে-ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, তাঁরা এই ধাপে সংশোধিত বেতন পাননি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন যে বাকি কাজ শেষ হলে দ্রুতই অন্যরাও তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যাবেন।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে একসঙ্গে পুরো সুবিধা না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ লাভ করবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ সংশোধিত বেতন স্কেল শতভাগ বাস্তবায়িত হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আগের হারেই বহাল থাকবে এবং নতুন ভাতার হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।

সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেই হিসেবে দীর্ঘ এগারো বছর পর দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের এই পরিবর্তন আনা হলো। অতীতের ২০১৫ সালের স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১০১ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৯৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

জনপ্রিয়

এই ৫ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ এনভিডিয়ার হাতে

১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন পেলেন যারা

প্রকাশিত ০৯:৩৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া অর্থ পেয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান যে নির্দিষ্ট দিনে সকাল থেকে অনেক কর্মচারীর মোবাইল ফোনে বর্ধিত বেতন জমার এসএমএস আসে। দেশের প্রায় চৌদ্দ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের অধিকাংশই এই নতুন সুবিধা পেয়েছেন। তবে যেসব কর্মীর পে-ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, তাঁরা এই ধাপে সংশোধিত বেতন পাননি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন যে বাকি কাজ শেষ হলে দ্রুতই অন্যরাও তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যাবেন।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন শতভাগ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে একসঙ্গে পুরো সুবিধা না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ লাভ করবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ সংশোধিত বেতন স্কেল শতভাগ বাস্তবায়িত হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আগের হারেই বহাল থাকবে এবং নতুন ভাতার হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।

সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেই হিসেবে দীর্ঘ এগারো বছর পর দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের এই পরিবর্তন আনা হলো। অতীতের ২০১৫ সালের স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১০১ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৯৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।