নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১১টি বাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ধানাইদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাব সরকারকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব, ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং সেনা কমান্ডার ক্যাপ্টেন আরাফাত রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাব্বির হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এর জের ধরে শনিবার বিরোধ মীমাংসার বৈঠকে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের সময় বিএনপি কর্মীরা ফাঁকা গুলি ছোড়েন, ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ধানাইদহ গ্রামের সানোয়ার হোসেন, ইব্রাহিম আলী, আব্দুস সোবাহান, নবীন আহম্মেদ, সিরাজুল ইসলাম, আল আমীন হোসেন ও মোজাম্মেল হোসেনের বাড়িসহ ১১টি বাড়ি এবং ধানাইদহ বাজারের একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত জামায়াত নেতা হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
বিকেলে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম।
তিনি অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পিস্তল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, যা ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।
বিষয়টি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে জানানো হয়েছে এবং তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আরও অন্তত ১০ জনকে মারধরের অভিযোগ তোলা হয়। এ বিষয়ে বিএনপির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




















