নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) দ্বিতীয়বারের মতো কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মানে অনুষ্ঠিত হয়েছে “মিট উইথ চ্যান্সেলর-২৬” শীর্ষক অনুষ্ঠান। “Celebrating Academic Excellence” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার (১৩ মে) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি অধ্যয়নরত অবস্থায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেয়া হয়।
নোবিপ্রবি রিসার্চ সেল আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিসার্চ সেলের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হানিফ মুরাদ, নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, ভুলুয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চূড়ান্ত ফলাফলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক সাফল্য উদযাপনের পাশাপাশি গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “আজকের আয়োজনের মূল আকর্ষণ আমাদের কৃতী শিক্ষার্থীরা। তাদের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক পরিশ্রম, ত্যাগ ও অধ্যবসায়। এই আয়োজন শুধু ভালো ফলাফলের উদযাপন নয়, বরং সেই সফলতার স্বীকৃতি প্রদান। শিক্ষার্থীদের এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের গর্ব।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের সফলতার পেছনে শিক্ষক ও পরিবারের অবদানও অনস্বীকার্য। তোমাদের মেধা শুধু নিজেদের জন্য নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এমনভাবে নিজেকে গড়ে তোলো, যেন তোমাদের অর্জনে পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ গর্ববোধ করে।”
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে অনুষ্ঠিত “মিট আপ উইথ ভাইস-চ্যান্সেলর” অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩টি বিভাগের প্রায় ১৮০ জন কৃতী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সে আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী।
ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাকিব/নোবিপ্রবি


















