ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জাঙ্ক ফুড পরিহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য: ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ সেমিনারে বক্তারা Logo অবিরাম স্ক্রিন ব্যবহারের যুগে চোখের স্বস্তিও এখন গুরুত্বপূর্ণ Logo জাবির সাবেক ছাত্রীকে গালিগালাজ, অভিযোগ পত্র জমা Logo চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে ববি মেডিকেল সেন্টার, তদন্তের অপেক্ষায় শিক্ষার্থী Logo জাবি মেডিকেল থেকে ২১ দিনে ২০ হাজার পিস ওষুধ গায়েব  Logo পাবিপ্রবিস্থ দিনাজপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি প্রকাশ  Logo জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার Logo রাষ্ট্রপতির সাথে বিদায়ি নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo অচল কম্পিউটারে চলছে পাবিপ্রবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ল্যাব, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা Logo ঘোষণায় সীমাবদ্ধ ‘জুলাই-২৪ স্কয়ার’, দুই বছরেও শুরু হয়নি কাজ

জাবি মেডিকেল থেকে ২১ দিনে ২০ হাজার পিস ওষুধ গায়েব 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতায় ২১ দিনে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধ লোপাটের অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাকসুর সদস্যদের প্রচারিত বার্তার প্রাথমিক পর্যায়ে এ বিষয় জানা যায়।

মেডিকেল অফিসের নথিপত্র ঘটে দেখা যায় চুরি হওয়া ঔষধগুলোরমধ্যে ৪৬৪৫ পিস অ্যালাট্রল, ৯১২ পিস অ্যাজিথ্রোমাইসিন, ৪২০ পিস সিপ্রোসিন, প্যারাসিটামল ৫০০০পিস, টাইমোনিয়াম ৭০০ পিস, ২৫০০ পিস ফ্যামোটিডিন, ২০০ পিস অ্যান্টানিল, ৯৯০ পিস ন্যাপা ও ৪২০০ পিস ডমপেরিডন ছিল।

এবিষয়ে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরুরি ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম স্যারকে নিয়ে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের হিসাব যাচাই করতে যাই। সেখানে দেখা যায় গত মাসের ৩০ তারিখে প্রায় ২ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হলেও মাত্র ২১ দিনের হিসাবেই প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে।”

“প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, গ্যাস্ট্রিক ও ব্যথানাশকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যাপক আকারে স্টোরে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্টার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামাল পিংকুর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। পরবর্তীতে প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি যথাযথ উত্তর দিতে পারেনি। আমরা মনে করি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত” বলেও জানান মোবারক।

এসময় তার সাথে জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি ও কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী উপস্থিত ছিলেন।

এবিষয়ে জাবি মেডিকেলের প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, “স্টোরের চাবি ও মজুদের দায়িত্ব স্টোর অফিসারের কাছে থাকায় এ বিষয়ে তার জবাবদিহি প্রয়োজন। এছাড়া ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহের প্রক্রিয়া একটি পৃথক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে তার ব্যক্তিগত স্বাক্ষর বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। এক্ষেত্রে একটি টিমের মাধ্যমে ঔষধ মুজদের বিষয়টি দেখা হয়।”

“আমি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)কে অবহিত করেছি। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং গরমিলের কারণ অনুসন্ধান করবো। একই সঙ্গে ওষুধ সংরক্ষণ ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার” কথাও জানান তিনি।

এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও মেডিকেল সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ” মেডিকেল সেন্টার থেকে আমরা মাঝে মাঝেই অভিযোগ পাই ঔষধ নেই। তাই আজকে অধ্যাপক সালেকুল, জাকসুর হুসনী মোবারক ও আমার অফিসের দুজন কর্মকর্তাকে ঝটিকা পর্যবেক্ষণে পাঠাই।”

“তাঁদের পর্যবেক্ষণ শেষে মেডিকেল থেকে যেভাবে ঔষধগুলো গায়েব হয়েছে আমরা তা খতিয়ে দেখবো। পাশাপাশি আমরা ল্যাবরেটির ঔষধগুলো কোথা থেকে আসে, কিভাবে ব্যবহার হয়, কোন খাতে নিয়ম হয় সেগুলো তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো” বলেও জানান অধ্যাপক নজরুল।

জনপ্রিয়

সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জাঙ্ক ফুড পরিহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য: ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ সেমিনারে বক্তারা

জাবি মেডিকেল থেকে ২১ দিনে ২০ হাজার পিস ওষুধ গায়েব 

প্রকাশিত ১০:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতায় ২১ দিনে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধ লোপাটের অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাকসুর সদস্যদের প্রচারিত বার্তার প্রাথমিক পর্যায়ে এ বিষয় জানা যায়।

মেডিকেল অফিসের নথিপত্র ঘটে দেখা যায় চুরি হওয়া ঔষধগুলোরমধ্যে ৪৬৪৫ পিস অ্যালাট্রল, ৯১২ পিস অ্যাজিথ্রোমাইসিন, ৪২০ পিস সিপ্রোসিন, প্যারাসিটামল ৫০০০পিস, টাইমোনিয়াম ৭০০ পিস, ২৫০০ পিস ফ্যামোটিডিন, ২০০ পিস অ্যান্টানিল, ৯৯০ পিস ন্যাপা ও ৪২০০ পিস ডমপেরিডন ছিল।

এবিষয়ে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরুরি ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম স্যারকে নিয়ে মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের হিসাব যাচাই করতে যাই। সেখানে দেখা যায় গত মাসের ৩০ তারিখে প্রায় ২ লাখ টাকার ওষুধ কেনা হলেও মাত্র ২১ দিনের হিসাবেই প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে।”

“প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, গ্যাস্ট্রিক ও ব্যথানাশকসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যাপক আকারে স্টোরে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্টার (স্টোর) মো. নূর-এ-কামাল পিংকুর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। পরবর্তীতে প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি যথাযথ উত্তর দিতে পারেনি। আমরা মনে করি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত” বলেও জানান মোবারক।

এসময় তার সাথে জাকসুর সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি ও কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী উপস্থিত ছিলেন।

এবিষয়ে জাবি মেডিকেলের প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, “স্টোরের চাবি ও মজুদের দায়িত্ব স্টোর অফিসারের কাছে থাকায় এ বিষয়ে তার জবাবদিহি প্রয়োজন। এছাড়া ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহের প্রক্রিয়া একটি পৃথক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে তার ব্যক্তিগত স্বাক্ষর বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই। এক্ষেত্রে একটি টিমের মাধ্যমে ঔষধ মুজদের বিষয়টি দেখা হয়।”

“আমি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)কে অবহিত করেছি। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং গরমিলের কারণ অনুসন্ধান করবো। একই সঙ্গে ওষুধ সংরক্ষণ ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার” কথাও জানান তিনি।

এঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও মেডিকেল সেন্টারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ” মেডিকেল সেন্টার থেকে আমরা মাঝে মাঝেই অভিযোগ পাই ঔষধ নেই। তাই আজকে অধ্যাপক সালেকুল, জাকসুর হুসনী মোবারক ও আমার অফিসের দুজন কর্মকর্তাকে ঝটিকা পর্যবেক্ষণে পাঠাই।”

“তাঁদের পর্যবেক্ষণ শেষে মেডিকেল থেকে যেভাবে ঔষধগুলো গায়েব হয়েছে আমরা তা খতিয়ে দেখবো। পাশাপাশি আমরা ল্যাবরেটির ঔষধগুলো কোথা থেকে আসে, কিভাবে ব্যবহার হয়, কোন খাতে নিয়ম হয় সেগুলো তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো” বলেও জানান অধ্যাপক নজরুল।