জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘোষিত লংমার্চের কর্মসূচি এবং এর কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ রাখার ফলে দেশজুড়ে জনভোগান্তি ও জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কর্মসূচির কারণে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল অপচয় হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি বিষয়।
ওই ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন যে, বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ বা অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এই লংমার্চে রাস্তায় ব্যাপক জনস্রোত নামবে বলে আয়োজকরা আশা করলেও বাস্তবে সাধারণ জনগণ তা থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখেছে। এমনকি বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সত্ত্বেও জামায়াত বা তাদের মিত্র দলগুলো জনসমর্থন আ আয়েশে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান সরকারের ওপর দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দায় চাপানোর অপচেষ্টা চলছে অভিযোগ করে তিনি জানান যে, গত ছয় মাসের একটি সরকারের ওপর প্রায় দুই দশকের জমে থাকা নানা অব্যবস্থাপনার দায় চাপানো চরম মূর্খতার শামিল। সাধারণ মানুষ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জটিলতা সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিবহাল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকেও স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সংসদ বা সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
লংমার্চের কারণে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান যে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে থাকে। এই কর্মসূচি চলাকালীন রাস্তা বন্ধ থাকায় যানবাহনগুলো আটকে পড়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে, যার ফলে রাষ্ট্রের প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। সম্পূর্ণ সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এবং মিথ্যাচারকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের ওপর এই ধরনের জোরপূর্বক আন্দোলন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।































