জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার চরম অব্যবস্থাপনা ও বেহাল দশা দেখে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সম্প্রতি বিকেলে হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে এত খারাপ কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র দেখার অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ও বর্তমান রোগীর সংখ্যার মধ্যকার আকাশচুম্বী ফারাক তুলে ধরেন। তিনি জানান, আড়াই শ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় সাড়ে আটশ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা নির্ধারিত ক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি। অতিরিক্ত রোগীর চাপে সেখানে তৈরি হওয়া শোচনীয় পরিবেশ দেখে তিনি রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে গেছেন এবং দেশের অন্য কোথাও এমন অমানবিক পরিস্থিতি থাকার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন।
হাসপাতালের ভেতরের ভয়াবহ দৃশ্য তুলে ধরে বিমানমন্ত্রী জানান, তিল ধারণের ঠাঁই না থাকায় মেঝেতে গাদাগাদি করে রোগীরা চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে একটি ইনকিউবেটরে নিয়ম অনুযায়ী একটিমাত্র নবজাতক থাকার কথা, সেখানে একই ডিভাইসের মধ্যে তিনজনকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা সত্ত্বেও সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে তিনি মত দেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এবং সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক অন্যতম। সরকারি দলের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তারাও হাসপাতালের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সামগ্রিক এই ভয়াবহ চিত্র দ্রুত পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




































