পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক কার্যক্রমে অংশ নিলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই অঞ্চলে সিউল যদি কোনো সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হয়, তবে তা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষাবলম্বন এবং ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা হিসেবে গণ্য করা হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরিয়ান ভাষায় দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই কড়া অবস্থান তুলে ধরেন। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং অন্য কোনো দেশের এমন অভিযানে সহযোগিতাকে তেহরান তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তেহরান ও সিউলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের বয়স প্রায় সাড়ে ছয় দশকেরও বেশি সময়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে এতদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে, যাকে তেহরান সবসময় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে আসছে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল এই জলসীমায় দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি দুই দেশের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ইরানি মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে সিউলকে এর জন্য মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে তাদের সরকার এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিতে পারে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সিউল এবং বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা চলছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের ওপর নানামুখী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ রয়েছে। অতীতে মার্কিন চাপে এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া কিছুটা রক্ষণশীল নীতি বজায় রাখলেও, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা বিষয়টিকে পুনরায় বিবেচনায় রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক পদক্ষেপে কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তাকে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি আগ্রাসনে অংশ নেওয়া হিসেবে দেখা হবে বলে বারবার সতর্ক করে আসছে ইরান। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তিকে মার্কিন সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল তেহরানি প্রশাসন। হরমুজ প্রণালিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক অংশগ্রহণের বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই মূলত ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তাটি এল। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় উত্তেজনা প্রশমনের পরিবর্তে বিদেশি শক্তির উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


































