ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইতালিতে হামলা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার বাঁধন Logo দেশে নিরক্ষর প্রায় পৌনে ৪ কোটি মানুষ Logo স্ত্রীকে কখনো নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাতিজি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী Logo তিন বছরের শিশুর মতো দেখতে ১৭ বছরের ইয়াসিন, দুঃখই যেন তার জীবনসঙ্গী Logo ঘটক এখন অতীত, সঙ্গী খোঁজার নতুন ট্রেন্ড ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’ Logo ‘এদের কাছে বাচ্চার কান্নাও কিছু না’, বাঁধনকে হেনস্তায় পরীমনির ক্ষোভ Logo কুমিল্লায় বাস খাদে পড়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ২০ শিক্ষার্থী আহত Logo বিগ ব্যাশে নাহিদ রানাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি Logo বিকেলে বিএনপি নেতার চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা, রাতে মৃত্যু Logo নামের মিল থাকায় ২০ দিন কারাভোগ, ওসিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

তিন বছরের শিশুর মতো দেখতে ১৭ বছরের ইয়াসিন, দুঃখই যেন তার জীবনসঙ্গী

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাবিবপুর গ্রামে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরের জীবন চরম প্রতিকূলতা ও দারিদ্র্যের মাঝে অতিবাহিত হচ্ছে। দেখতে মাত্র তিন বছরের শিশুর মতো এই কিশোরের উচ্চতা মাত্র ৩২ ইঞ্চি এবং জন্ম থেকেই সে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবা এবং ১০ বছর বয়সি ছোট ভাইকে নিয়ে তার এই মানবেতর বসবাস। দৈহিক বৃদ্ধি থমে যাওয়ায় তার এই ব্যতিক্রমী শারীরিক গঠন আশেপাশের মানুষের নজর কাড়লেও ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

কৈশোরের শুরুতেই এই পরিবারের ওপর নেমে আসে বড় ধরনের এক বিপর্যয়, যখন মাত্র ৯ বছর বয়সে ইয়াসিন তার মাকে হারায়। মাতৃবিয়োগের পর শ্রবণশক্তিহীন বাবা আতিকুল ইসলাম আর দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি এবং একা হাতে সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। পেটের টানে তাকে প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছাগল কেনাবেচা করতে হয়, যা থেকে সামান্য আয় হয়। চরম অর্থনৈতিক অনটনের কারণে এই কিশোরের উন্নত চিকিৎসা কিংবা ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

বাবার অনুপস্থিতিতে ঘর সামলানোর বড় দায়িত্ব থাকে এই ১৭ বছর বয়সি কিশোরের কাঁধে, যেখানে সে নিজের সাধ্যমতো ছোট ভাইয়ের দেখাশোনা ও রান্নার কাজ সম্পন্ন করে থাকে। তবে তাদের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ নেমে আসে বর্ষাকালে, যখন জরাজীর্ণ ঘরের চালের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করে এবং মেঝেতে পানি জমে যায়। নিরাপদ ও বাসযোগ্য কোনো ঘর না থাকায় এই চরম দুর্দশার মধ্যেই তাদের রাত কাটাতে হয়, যা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

পরিবারের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক আলী জানান যে, বাবা ও ছেলে উভয়ের শারীরিক জটিলতার কারণে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্বে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলেও সিমসংক্রান্ত জটিলতায় সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং তা চালুর জন্য তিনি সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করছেন। এদিকে জীবননগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির উদ্দিন মোড়ল জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে এই অসহায় পরিবারটিকে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

ইতালিতে হামলা, শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার বাঁধন

তিন বছরের শিশুর মতো দেখতে ১৭ বছরের ইয়াসিন, দুঃখই যেন তার জীবনসঙ্গী

প্রকাশিত ১১:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাবিবপুর গ্রামে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরের জীবন চরম প্রতিকূলতা ও দারিদ্র্যের মাঝে অতিবাহিত হচ্ছে। দেখতে মাত্র তিন বছরের শিশুর মতো এই কিশোরের উচ্চতা মাত্র ৩২ ইঞ্চি এবং জন্ম থেকেই সে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। ছোট্ট একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে শ্রবণপ্রতিবন্ধী বাবা এবং ১০ বছর বয়সি ছোট ভাইকে নিয়ে তার এই মানবেতর বসবাস। দৈহিক বৃদ্ধি থমে যাওয়ায় তার এই ব্যতিক্রমী শারীরিক গঠন আশেপাশের মানুষের নজর কাড়লেও ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

কৈশোরের শুরুতেই এই পরিবারের ওপর নেমে আসে বড় ধরনের এক বিপর্যয়, যখন মাত্র ৯ বছর বয়সে ইয়াসিন তার মাকে হারায়। মাতৃবিয়োগের পর শ্রবণশক্তিহীন বাবা আতিকুল ইসলাম আর দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি এবং একা হাতে সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। পেটের টানে তাকে প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ছাগল কেনাবেচা করতে হয়, যা থেকে সামান্য আয় হয়। চরম অর্থনৈতিক অনটনের কারণে এই কিশোরের উন্নত চিকিৎসা কিংবা ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

বাবার অনুপস্থিতিতে ঘর সামলানোর বড় দায়িত্ব থাকে এই ১৭ বছর বয়সি কিশোরের কাঁধে, যেখানে সে নিজের সাধ্যমতো ছোট ভাইয়ের দেখাশোনা ও রান্নার কাজ সম্পন্ন করে থাকে। তবে তাদের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ নেমে আসে বর্ষাকালে, যখন জরাজীর্ণ ঘরের চালের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করে এবং মেঝেতে পানি জমে যায়। নিরাপদ ও বাসযোগ্য কোনো ঘর না থাকায় এই চরম দুর্দশার মধ্যেই তাদের রাত কাটাতে হয়, যা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

পরিবারের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক আলী জানান যে, বাবা ও ছেলে উভয়ের শারীরিক জটিলতার কারণে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পূর্বে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলেও সিমসংক্রান্ত জটিলতায় সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং তা চালুর জন্য তিনি সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করছেন। এদিকে জীবননগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাকির উদ্দিন মোড়ল জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে এই অসহায় পরিবারটিকে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।