ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি Logo নির্বাচনের পরও অনিশ্চয়তা, ফের ভোটের পথে ইসরাইল? Logo অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকার রাখতে হবে: জাতিসংঘে আইরিন খান Logo ব্যর্থতাই কি সফলতার আসল চাবিকাঠি? Logo ঢাকার ২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য নয়, বিনিয়োগ চায়: রাষ্ট্রপতি Logo অবৈধ সম্পদ: সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামলের ৫ বছরের কারাদণ্ড Logo নেপালের নাট্যোৎসবে অংশ নিচ্ছে ‘হিরণ কিরণ থিয়েটার’ Logo ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বাংলাদেশের জিডিপি: প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ইউনাইটেডের বিপক্ষে গ্রিমস্বির জয় থেকে প্রেরণা নিয়ে’ আর্সেনালকে ধরাশায়ী করল ফ্লিটউড

নিজেদের দাবি জানাতে সড়কে নেমে পড়লো রোবটের দল

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের প্রতিবাদে এক অভিনব আন্দোলনের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি দেশটির ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের সামনে প্রায় ৩০টি হিউম্যানয়েড রোবট একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সাধারণ মানুষের মতো নানা ধরনের স্লোগান দিয়ে এবং পতাকা নেড়ে এই অদ্ভুত প্রতিবাদটি জানায় যান্ত্রিক এই মানবাকৃতির দল। মূলত শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও ব্যতিক্রমী ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে।

‘ডেমোক্র্যাটিজম’ নামক একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ এই অভিনব বিক্ষোভের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করে। তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এআই এবং রোবোটাইজেশনের ফলে শ্রমবাজারের ওপর যে নেতিবাচক বা পরিবর্তনশীল প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে জনপরিসরে একটি কার্যকর বিতর্ক শুরু করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ‘এজিবট-এথ্রি’ নামের একটি প্রদর্শিত রোবট গণমাধ্যম ও উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রযুক্তিগত এই অগ্রগতির বাস্তব রূপ তুলে ধরে। আধুনিক এই প্রযুক্তি যে এখন কেবল কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং আমাদের চোখের সামনে এক বাস্তব সত্য—সেটিই তারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে।

বিক্ষোভের সময় রোবটগুলোর লাউডস্পিকার থেকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও দাবিভিত্তিক স্লোগান বাজানো হয়। ‘কর্মক্ষেত্র রক্ষা করুন’, ‘নিয়মকানুন তৈরির সময় এসেছে’ এবং ‘অপেক্ষা করবেন না, নিয়ম তৈরি করুন’—এই জাতীয় স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ওয়ারশর রাজপথ। আয়োজক দলের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা গ্রেগরজ কুলিস এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, জ্ঞানভিত্তিক পেশাগুলোতে মানুষের স্থান দখল করতে পারে এআই ও হিউম্যানয়েড রোবট, আর সেই সম্ভাব্য ঝুঁকিটিই তারা জোরালোভাবে সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

উদ্যোক্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে যদি এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। রোবটগুলো যেভাবে এখন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে শুরু করেছে এবং প্রয়োজনে রাজপথেও নেমে এসেছে, তা ভবিষ্যতের এক নতুন ইঙ্গিত বহন করে। তবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির একপর্যায়ে পোল্যান্ডের ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী ক্রিস্তফ গাওকোস্কি স্বয়ং বিক্ষোভরত রোবটগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন এবং আয়োজকদের বক্তব্য শোনেন।

জনপ্রিয়

স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি

নিজেদের দাবি জানাতে সড়কে নেমে পড়লো রোবটের দল

প্রকাশিত ০১:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের প্রতিবাদে এক অভিনব আন্দোলনের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি দেশটির ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের সামনে প্রায় ৩০টি হিউম্যানয়েড রোবট একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সাধারণ মানুষের মতো নানা ধরনের স্লোগান দিয়ে এবং পতাকা নেড়ে এই অদ্ভুত প্রতিবাদটি জানায় যান্ত্রিক এই মানবাকৃতির দল। মূলত শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং এর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও ব্যতিক্রমী ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে।

‘ডেমোক্র্যাটিজম’ নামক একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ এই অভিনব বিক্ষোভের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করে। তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এআই এবং রোবোটাইজেশনের ফলে শ্রমবাজারের ওপর যে নেতিবাচক বা পরিবর্তনশীল প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে জনপরিসরে একটি কার্যকর বিতর্ক শুরু করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ‘এজিবট-এথ্রি’ নামের একটি প্রদর্শিত রোবট গণমাধ্যম ও উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রযুক্তিগত এই অগ্রগতির বাস্তব রূপ তুলে ধরে। আধুনিক এই প্রযুক্তি যে এখন কেবল কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং আমাদের চোখের সামনে এক বাস্তব সত্য—সেটিই তারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে।

বিক্ষোভের সময় রোবটগুলোর লাউডস্পিকার থেকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও দাবিভিত্তিক স্লোগান বাজানো হয়। ‘কর্মক্ষেত্র রক্ষা করুন’, ‘নিয়মকানুন তৈরির সময় এসেছে’ এবং ‘অপেক্ষা করবেন না, নিয়ম তৈরি করুন’—এই জাতীয় স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ওয়ারশর রাজপথ। আয়োজক দলের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা গ্রেগরজ কুলিস এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, জ্ঞানভিত্তিক পেশাগুলোতে মানুষের স্থান দখল করতে পারে এআই ও হিউম্যানয়েড রোবট, আর সেই সম্ভাব্য ঝুঁকিটিই তারা জোরালোভাবে সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

উদ্যোক্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে যদি এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। রোবটগুলো যেভাবে এখন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে শুরু করেছে এবং প্রয়োজনে রাজপথেও নেমে এসেছে, তা ভবিষ্যতের এক নতুন ইঙ্গিত বহন করে। তবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির একপর্যায়ে পোল্যান্ডের ডিজিটাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী ক্রিস্তফ গাওকোস্কি স্বয়ং বিক্ষোভরত রোবটগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন এবং আয়োজকদের বক্তব্য শোনেন।