বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ এবং মাঝিদের প্রাণপণ হুঙ্কারে মুখরিত হয়ে উঠেছিল কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা। গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এই বর্ণিল আয়োজনে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা হাজার হাজার মানুষ নদীর তীরে ভিড় জমিয়েছিলেন। ঢোলের তালে তালে মাঝিদের সমস্বরে গান আর নৌকা এগিয়ে নেওয়ার লড়াই পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলে। ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ উপভোগ করতে পেরে স্থানীয় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
নিকলী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নিকলী সদরের চইল্লাতি হাওরে সম্প্রতি এই জমজমাট নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল আনুষ্ঠানিকভাবে এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় ছোট ও বড় মিলিয়ে মোট ১০টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। তিনটি ভিন্ন পর্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে মাঝিরা তাদের নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন।
দিনের এই প্রতিযোগিতায় বড় নৌকার ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন নিকলী সদর ইউনিয়নের ইসরাফিল মাঝি, যিনি পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ লাভ করেন। এছাড়া দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সিংপুরের ইটকলা সর্দার গ্রুপের মজিবুল্লাহকে একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ছোট নৌকার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান দখল করে পাচলীপাড়া দল এবং রানারআপ হয় নিকলীর গোবিন্দপুরের মোবারক দল। বিজয়ী ও রানারআপ দলগুলোর হাতে যথাক্রমে এলইডি টেলিভিশন এবং মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, নৌকাবাইচ কেবল একটি সাধারণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি গ্রামবাংলার হাজার বছরের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে এই ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. সাদ্দাম হোসেন সাদু এবং পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নিকলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. শরিফুল হক। এ সময় নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. কফিল উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের উপস্থিতি ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।


































