ইরানের বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার পতনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি সিরিয়ার জাবাল আল-শেখ বা মাউন্ট হারমন এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে সিরীয় ভূখণ্ডের কিছু অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে দখল করে রেখেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পরিদর্শনের সময়ই মূলত এই বিস্ফোরক বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করাই ইসরায়েলের সবচেয়ে প্রধান ও সর্বোচ্চ লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে অনেক দূর অগ্রসর হওয়া গেছে বলে দাবি করলেও কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তবে তার মতে, কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তাদের পরিকল্পনা এবং শেষ পর্যন্ত এই পুরো প্রতিরোধ অক্ষ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক সীমানার কাছাকাছি কোনো ধরনের বিরোধী বা ‘সন্ত্রাসী শক্তিকে’ স্থায়ীভাবে ঘাঁটি গেড়ে বসতে দেওয়া হবে না। নিজ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে যেকোনো মূল্যে সীমান্ত এলাকায় প্রতিপক্ষ শক্তির যেকোনো সামরিক উপস্থিতি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলি শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য সামনে এল। সিরিয়াসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন সংঘাতে ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক উপস্থিতি এবং তেহরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের আবহেই এই মন্তব্য করা হয়েছে। আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে চলমান এই কথার লড়াই মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও সংবেদনশীল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



































