নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ উন্নতি ঘটছে। সম্প্রতি একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তার শারীরিক উন্নতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানী ঢাকার একটি শীর্ষস্থানীয় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে রাতে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে তাকে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তার পাকস্থলী ওয়াশ করা হয়। এর পর থেকেই তিনি হাসপাতালটির চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সম্প্রতি সন্ধ্যায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি এড়াতে তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে বা আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেঘমল্লার বসুর সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল বেশ আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে তার শারীরিক পরিস্থিতির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে এবং তার সুস্থতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নির্দেশমতো সব ধরনের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালে ভর্তির আগে মেঘমল্লার বসু তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিলেন। সেই পোস্টে তিনি নিজের ব্যক্তিগত হতাশা, অপরাধবোধ, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। এছাড়া পোস্টে তিনি তার সাবেক প্রেমিকাকে মৃত্যুর জন্য দায়ী না করার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি বন্ধু ও সহযোদ্ধাদের তার মা ও পরিবারের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে ওই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সন্ধানে তৎপর হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই তাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তার সুস্থতার খবরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও ছাত্র মহলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে এবং সবাই তার দ্রুত পরিপূর্ণ আরোগ্য কামনা করছেন।

































