অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে বিশাল অঙ্কের অর্থ কর হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছেন, যার ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষে আইনি বৈধতা পেয়েছে তাদের দাবি করা রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া।
আদালতের দেওয়া রায় অনুযায়ী, গ্রামীণ কল্যাণকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে মোট ৬৬৬ কোটি টাকা কর বাবদ জমা দিতে হবে। এর আগে এনবিআর এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কর হিসেবে দাবি করলে তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত সেই রিট বা রুল খারিজ করে দেন, যার ফলে কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বহাল থাকে।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল সংবাদমাধ্যমকে এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে, আদালতের এই আদেশের ফলে এনবিআর-এর পাওনা অর্থ আদায়ে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
এদিকে আদালতের এই রায়ের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবিরা উচ্চ আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গ্রামীণ কল্যাণের আইনি প্রতিনিধি ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল আবেদন দায়ের করবেন। ফলে আইনি এই লড়াই এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও গড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





































