ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo র‍্যাবের মতো আরেকটি বাহিনী গঠন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীদল Logo হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু Logo নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে ৮৬ জনের নিয়োগ, লাগবে না আবেদন ফি Logo ‘মাননীয়’ বাদ, অনলাইন হাজিরা: নিজ দপ্তরেই দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর Logo চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাত Logo ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট Logo শেখ হাসিনায় নীরব ভারত, তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা Logo ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস Logo ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী, প্রতিনিধিও যাবেন না Logo যাত্রীবাহী বাস থেকে শতাধিক টিয়া উদ্ধার, ওড়ানো হলো মুক্ত আকাশে

‘মাননীয়’ বাদ, অনলাইন হাজিরা: নিজ দপ্তরেই দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর

রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা বাতিলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক এক সরকারি নির্দেশনার আলোকে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয় থেকেই এর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু করেছেন, যা প্রশাসনের অন্যান্য স্তরে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সব ধরনের ফাইল ও সারসংক্ষেপে ‘মাননীয়’ শব্দটির ব্যবহার বাদ দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখন থেকে নথিপত্র ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই বিশেষ উপাধি ছাড়াই কেবল পদবি উল্লেখ করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়, যা মূলত তার আগের দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা একটি পরিপত্রের ধারাবাহিকতা। ওই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগের সময় ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’-এর মতো কোনো বিশেষণ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসা এই সিদ্ধান্তকে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে সরাসরি নিজের দপ্তর থেকেই চালুর মাধ্যমে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সরকারপ্রধান। এর মধ্য দিয়ে মূলত পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক আড়ম্বর কমিয়ে জনসেবা ও কাজের জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

কেবল নথিপত্রের সম্বোধন নয়, বরং দৈনন্দিন দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও সাধারণ কর্মীদের জন্য এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে আসা ও যাওয়ার সময় সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তাঁকেও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা প্রদান করতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনিক নিয়মানুবর্তিতার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন ব্যক্তি যখন এই ধরনের ক্ষুদ্র অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলেন, তখন তা সমগ্র প্রশাসনিক কাঠামোতে এক জোরালো শৃঙ্খলার বার্তা দেয়। এর ফলে অধস্তন কর্মচারীদের মধ্যেও সময়ানুবর্তিতা এবং সরকারি বিধিমালার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এবং অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক বা আড়ম্বর দূর করতে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিপূর্বে সরকারি বিভিন্ন প্রচারণায় নিজের ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, প্রটোকলে গাড়ির বহর ছোট করা এবং চলাচলের সময় সাধারণ জনগণের চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এমনকি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া তিনি সাধারণ গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং পতাকাবাহী গাড়ির যত্রতত্র ব্যবহার থেকেও বিরত থাকছেন। এসব বহুমুখী সংস্কারমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ সুবিধা বা অর্জিত পদের অহংকার হিসেবে না দেখে, বরং এটিকে জনসেবার একটি পবিত্র প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।

জনপ্রিয়

র‍্যাবের মতো আরেকটি বাহিনী গঠন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীদল

‘মাননীয়’ বাদ, অনলাইন হাজিরা: নিজ দপ্তরেই দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত ০৪:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা বাতিলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক এক সরকারি নির্দেশনার আলোকে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয় থেকেই এর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু করেছেন, যা প্রশাসনের অন্যান্য স্তরে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো সব ধরনের ফাইল ও সারসংক্ষেপে ‘মাননীয়’ শব্দটির ব্যবহার বাদ দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখন থেকে নথিপত্র ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই বিশেষ উপাধি ছাড়াই কেবল পদবি উল্লেখ করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়, যা মূলত তার আগের দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা একটি পরিপত্রের ধারাবাহিকতা। ওই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগের সময় ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’-এর মতো কোনো বিশেষণ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসা এই সিদ্ধান্তকে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে সরাসরি নিজের দপ্তর থেকেই চালুর মাধ্যমে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সরকারপ্রধান। এর মধ্য দিয়ে মূলত পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক আড়ম্বর কমিয়ে জনসেবা ও কাজের জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

কেবল নথিপত্রের সম্বোধন নয়, বরং দৈনন্দিন দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও সাধারণ কর্মীদের জন্য এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে আসা ও যাওয়ার সময় সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তাঁকেও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা প্রদান করতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনিক নিয়মানুবর্তিতার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন ব্যক্তি যখন এই ধরনের ক্ষুদ্র অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলেন, তখন তা সমগ্র প্রশাসনিক কাঠামোতে এক জোরালো শৃঙ্খলার বার্তা দেয়। এর ফলে অধস্তন কর্মচারীদের মধ্যেও সময়ানুবর্তিতা এবং সরকারি বিধিমালার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এবং অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক বা আড়ম্বর দূর করতে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিপূর্বে সরকারি বিভিন্ন প্রচারণায় নিজের ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, প্রটোকলে গাড়ির বহর ছোট করা এবং চলাচলের সময় সাধারণ জনগণের চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এমনকি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া তিনি সাধারণ গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং পতাকাবাহী গাড়ির যত্রতত্র ব্যবহার থেকেও বিরত থাকছেন। এসব বহুমুখী সংস্কারমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কোনো বিশেষ সুবিধা বা অর্জিত পদের অহংকার হিসেবে না দেখে, বরং এটিকে জনসেবার একটি পবিত্র প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।