ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুদকের দুই মামলায় সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই চার্জশিটগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে দুদকের পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির মামলার বিভিন্ন দিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়। হারুন অর রশীদ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অনুমোদিত প্রথম মামলাটিতে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা মিলেছে। তদন্তে জানা যায়, হারুনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ২১ কোটি টাকার বেশি, অথচ তার বৈধ আয়ের উৎস ছিল অত্যন্ত সীমিত। বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য ব্যয় বাদ দিয়ে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার মতো। ফলে বিশাল এই অর্থ তিনি কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে অর্জন করেছেন, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

অপর মামলাটিতে হারুনের ছোট ভাই চিকিৎসক ডা. এ বি এম শাহরিয়ারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে এই মামলার সহযোগী আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে। এই মামলায় দুই ভাইয়ের যৌথভাবে প্রায় ১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ডা. শাহরিয়ার পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও তিনি প্রেসিডেন্ট রিসোর্টসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালিক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। এই দুই মামলার সার্বিক তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা খুব দ্রুতই নির্ধারিত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, এই দুটি মামলার মাধ্যমে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৩৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে হারুন অর রশীদ, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার এবং ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া ও আইনি যাচাই-বাছাই শেষে এখন একে একে এসব মামলার চার্জশিট চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী এই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয়

মেট্রোরেলের ২৭ বেয়ারিং প্যাড ক্রিটিক্যাল, ৪৬ পিলারে ফাটল

দুদকের দুই মামলায় সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

প্রকাশিত ০৬:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই চার্জশিটগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে দুদকের পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির মামলার বিভিন্ন দিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়। হারুন অর রশীদ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অনুমোদিত প্রথম মামলাটিতে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা মিলেছে। তদন্তে জানা যায়, হারুনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ২১ কোটি টাকার বেশি, অথচ তার বৈধ আয়ের উৎস ছিল অত্যন্ত সীমিত। বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য ব্যয় বাদ দিয়ে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার মতো। ফলে বিশাল এই অর্থ তিনি কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে অর্জন করেছেন, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

অপর মামলাটিতে হারুনের ছোট ভাই চিকিৎসক ডা. এ বি এম শাহরিয়ারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে এই মামলার সহযোগী আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে। এই মামলায় দুই ভাইয়ের যৌথভাবে প্রায় ১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ডা. শাহরিয়ার পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও তিনি প্রেসিডেন্ট রিসোর্টসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালিক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। এই দুই মামলার সার্বিক তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা খুব দ্রুতই নির্ধারিত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবেন বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, এই দুটি মামলার মাধ্যমে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৩৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে হারুন অর রশীদ, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার এবং ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছিল দুদক। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া ও আইনি যাচাই-বাছাই শেষে এখন একে একে এসব মামলার চার্জশিট চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী এই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি।