ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিখ্যাত শেনজেন ভিসার আদলে উপসাগরীয় অঞ্চলে এবার একটি অভিন্ন পর্যটন ভিসা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে একক একটি ভিসার মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) অন্তর্ভুক্ত ছয়টি দেশ অবাধে ভ্রমণ করা সম্ভব হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান এবং কুয়েত নিয়ে গঠিত এই আঞ্চলিক জোটের পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করতেই এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনার পর সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই এই ভিসা চালুর প্রস্তুতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, একক এই পর্যটন ভিসার ধারণাটি কেবল পর্যটন খাতের প্রসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি বা তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এর অংশ হিসেবে ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনোদন ও পর্যটন খাতকে নতুন অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। শেনজেন ব্যবস্থার অনুকরণে এই আঞ্চলিক ভিসা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি বিশ্ববাসীর কাছে একটি সমন্বিত ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণকারীদের এই ছয়টি দেশে আলাদাভাবে যাতায়াতের জন্য পৃথক ভিসার জটিল প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর। নতুন এই গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলে সেই প্রশাসনিক জটিলতা অনেকাংশেই দূর হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণ হবে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ভ্রমণপিপাসুদের জন্যও এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একক ভিসার বদৌলতে পর্যটকরা একই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আধুনিক অবকাঠামো, সৌদি আরবের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান, কাতারের বৈচিত্র্যময় আকর্ষণ এবং ওমানের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব সহজেই উপভোগ করতে পারবেন।
তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া কেমন হবে, ফি কত নির্ধারণ করা হবে কিংবা ভিসার মেয়াদের দীর্ঘতা কত দিন থাকবে—সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি কোন কোন দেশের নাগরিকরা নির্দিষ্ট কী কী শর্ত সাপেক্ষে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা আসার অপেক্ষায় রয়েছেন পর্যটকরা। ধারণা করা হচ্ছে, আয়োজক দেশগুলোর পক্ষ থেকে খুব দ্রুতই এই নিয়মনীতি ও কার্যপ্রণালী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।



































