ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘অতিমাত্রায় রাজনীতিতে শিক্ষকরা’, লাগাম টানতে হচ্ছে আচরণবিধি

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনীতিমুক্ত করতে এবং পাঠদানের মান বাড়াতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের একাংশ প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষাদানের চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মনোযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সামগ্রিক শিক্ষাকার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার মান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমাজের পেশাগত দায়িত্ববোধ ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন এবং কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের শিক্ষা খাতকে রাজনীতিমুক্ত রাখার এই কার্যক্রমে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে এই নতুন আচরণবিধি তৈরি করা হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। এমতাবস্থায়, শিক্ষক সমাজকে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই নতুন আচরণবিধি প্রণয়নের জন্য জোরালো নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি খসড়া পরিমার্জন করে চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান মনে করেন, ক্লাসরুমের পাঠদানে অমনোযোগিতার কারণেই অনেক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ফল খারাপ হচ্ছে এবং শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষার সামগ্রিক গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ১৫ দফার একটি বিস্তারিত ও সময়োপযোগী নির্দেশনা জারি করেছেন। এই নির্দেশনার মধ্যে শিক্ষাঙ্গনকে পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত রাখার পাশাপাশি শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত অন্যান্য কার্যক্রম থেকেও বিরত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান তদারকি এবং দেশের যে কোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ক্লাস নিশ্চিত করতে একটি ডেডিকেটেড জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল চালুর বিষয়টিও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন যে, সরকারের এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ইতিমধ্যে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার এই পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাঝে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষকরা যাতে সম্পূর্ণরূপে তাদের পেশাগত দায়িত্ব তথা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই নতুন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রস্তাবিত আচরণবিধি চূড়ান্ত হলে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক সমাজে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এর ফলে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ালেখার মান বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীরা একটি সুস্থ ও অনুকূল শিক্ষাবাতাবরণ লাভ করতে সক্ষম হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই রূপরেখা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব নির্দেশনা দৃশ্যমান করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়

গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ২৫ জন রিমান্ডে

‘অতিমাত্রায় রাজনীতিতে শিক্ষকরা’, লাগাম টানতে হচ্ছে আচরণবিধি

প্রকাশিত ০৮:০১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনীতিমুক্ত করতে এবং পাঠদানের মান বাড়াতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের একাংশ প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষাদানের চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মনোযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সামগ্রিক শিক্ষাকার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার মান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমাজের পেশাগত দায়িত্ববোধ ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন এবং কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের শিক্ষা খাতকে রাজনীতিমুক্ত রাখার এই কার্যক্রমে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে এই নতুন আচরণবিধি তৈরি করা হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। এমতাবস্থায়, শিক্ষক সমাজকে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই নতুন আচরণবিধি প্রণয়নের জন্য জোরালো নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি খসড়া পরিমার্জন করে চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান মনে করেন, ক্লাসরুমের পাঠদানে অমনোযোগিতার কারণেই অনেক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ফল খারাপ হচ্ছে এবং শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

শিক্ষার সামগ্রিক গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ১৫ দফার একটি বিস্তারিত ও সময়োপযোগী নির্দেশনা জারি করেছেন। এই নির্দেশনার মধ্যে শিক্ষাঙ্গনকে পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত রাখার পাশাপাশি শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত অন্যান্য কার্যক্রম থেকেও বিরত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার, শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান তদারকি এবং দেশের যে কোনো প্রান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ক্লাস নিশ্চিত করতে একটি ডেডিকেটেড জাতীয় শিক্ষা চ্যানেল চালুর বিষয়টিও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন যে, সরকারের এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ইতিমধ্যে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার এই পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মাঝে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষকরা যাতে সম্পূর্ণরূপে তাদের পেশাগত দায়িত্ব তথা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই নতুন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রস্তাবিত আচরণবিধি চূড়ান্ত হলে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক সমাজে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এর ফলে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ালেখার মান বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীরা একটি সুস্থ ও অনুকূল শিক্ষাবাতাবরণ লাভ করতে সক্ষম হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই রূপরেখা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব নির্দেশনা দৃশ্যমান করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।