ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ Logo লিফট রেখে সিঁড়ি বেয়ে ছয়তলায় উঠে বৈঠকে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo পদায়নে ‘ঘুস’ বাণিজ্য-১১ হাজার কোটি পাচারের অভিযোগ আসিফের বিরুদ্ধে Logo দিল্লিতে কিশোর কুমারের গান গাইলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী Logo এআই-এর কারণে ভবিষ্যতে মানবজাতির ধ্বংসের প্রবল আশঙ্কা প্রকাশ Logo সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের মাশরাফি বহিষ্কার Logo জাবিতে প্রতিদিন থাকবে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং, জানালো প্রশাসন Logo কুয়ালালামপুরে মেগা অভিযানে ৩৬৪ বাংলাদেশি আটক Logo আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ: হাইকোর্ট Logo ৫০০ টাকা কেজি ভারত-মিয়ানমারের ইলিশ দেশে বিক্রি ১৪০০-১৮০০!

অভিযানের নামে ৪০ ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ, কনস্টেবলসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভুয়া অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে পুলিশের এক সদস্যসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সংঘটিত এই অপরাধের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্স এলাকা থেকে কনস্টেবল জাকির হোসেনকে এবং তার নিজ বাসা থেকে মোহাম্মদ আলী নামের অপর এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট রাজশাহী থেকে নিয়ে আসা ৪০ ভরি স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌঁছানোর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় কনস্টেবল জাকির ও তার সহযোগী সেখানে উপস্থিত হন। এরপর তারা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সেই স্বর্ণ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন আকস্মিক ছুটিতে চলে যান এবং পরবর্তীতে কর্মস্থলে ফিরে আসার পর তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। মূলত ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাকে সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয়। গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অধীনে অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তার সহযোগী মোহাম্মদ আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলমপুর এলাকার বাসিন্দা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ গণমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের পরপরই রাতেই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আসামি মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আত্মসাৎ করা বাকি স্বর্ণটুকু উদ্ধারের জন্য পুলিশের তৎপরতা ও অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, রাজশাহী থেকে গলানো এই স্বর্ণগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ ধারণা করছে যে, এই স্বর্ণগুলো অবৈধভাবে ভারতে পাচার করার একটি পরিকল্পনা ছিল। পুরো ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং এই চক্রের সাথে আন্তর্জাতিক কোনো চোরাচালান সিন্ডিকেট যুক্ত কি না, সে বিষয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়

আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

অভিযানের নামে ৪০ ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ, কনস্টেবলসহ গ্রেফতার ২

প্রকাশিত ০২:১৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভুয়া অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে পুলিশের এক সদস্যসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সংঘটিত এই অপরাধের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্স এলাকা থেকে কনস্টেবল জাকির হোসেনকে এবং তার নিজ বাসা থেকে মোহাম্মদ আলী নামের অপর এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট রাজশাহী থেকে নিয়ে আসা ৪০ ভরি স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌঁছানোর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় কনস্টেবল জাকির ও তার সহযোগী সেখানে উপস্থিত হন। এরপর তারা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সেই স্বর্ণ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন আকস্মিক ছুটিতে চলে যান এবং পরবর্তীতে কর্মস্থলে ফিরে আসার পর তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। মূলত ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাকে সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয়। গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অধীনে অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তার সহযোগী মোহাম্মদ আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলমপুর এলাকার বাসিন্দা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ গণমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের পরপরই রাতেই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আসামি মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আত্মসাৎ করা বাকি স্বর্ণটুকু উদ্ধারের জন্য পুলিশের তৎপরতা ও অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, রাজশাহী থেকে গলানো এই স্বর্ণগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ ধারণা করছে যে, এই স্বর্ণগুলো অবৈধভাবে ভারতে পাচার করার একটি পরিকল্পনা ছিল। পুরো ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং এই চক্রের সাথে আন্তর্জাতিক কোনো চোরাচালান সিন্ডিকেট যুক্ত কি না, সে বিষয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।