গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত ওই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালালেও মাদক কারবারিদের শক্ত প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টঙ্গীর কেরানীরটেক মাদক বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রানী বেগমের ছেলে রাহুলকে আটক করা হয়, যার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে পাঁচটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। আটকের পর তাকে থানায় নিয়ে আসার সময় টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মাদক কারবারিরা সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের পথরোধ করে।
আসামি ছাড়িয়ে নিতে হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রেললাইন থেকে পাথর কুড়িয়ে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ছুড়তে শুরু করে। এই আকস্মিক ও সহিংস পাথরের আঘাতে মাসুদ নামের এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর জখম হন। পুলিশের ওপর এই ধরনের হামলার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা হাতকড়াপরা অবস্থাতেই রাহুলকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে স্থানীয় এলাকা তল্লাশি করে পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় হাতকড়াটি উদ্ধার করতে পারলেও মূল আসামির নাগাল পায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকছুদুল আলম জানান যে, আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশি টিম বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ সদস্যের ওপর হামলাকারী এবং পালিয়ে যাওয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রাহুলকে যেকোনো মূলེ་ আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এসব অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

































