ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমা খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি গভীরে, কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

দেশের বিমা খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্প্রতি রাজধানীর বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, এই খাতের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতি এতটাই গভীরে শিকড় গেড়েছে যে তা দূর করতে বেশ কিছু কঠিন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিমা খাতে জমা রাখলেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে সেই দাবি পরিশোধ করছে না। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৫৭ শতাংশ বিমা দাবি এখনো অনিষ্পন্ন বা ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। গ্রাহকদের এই আস্থার সংকট দূর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।

বিমা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম রোধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থের সংকট রয়েছে, প্রয়োজনে তাদের জমানো সম্পদ বা জমি বিক্রি করে হলেও গ্রাহকদের সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া, কিছু প্রতিষ্ঠানে দুটি আলাদা সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে অস্বচ্ছতার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে, যার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ কমাতে পুরো বিমা খাতকে আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে, যেখানে সমস্ত লেনদেন অনলাইনে সম্পন্ন হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে।

খাতটির সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে বিমা আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের আদলে একটি কার্যকর ‘রেজুলেশন’ কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে সাত থেকে আটটি বিমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর নিজস্ব দক্ষ ও পেশাদার জনবল তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ডেপুটেশন নির্ভরতা কাটিয়ে একটি শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। আইনি জটিলতা বা আদালতের স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন অনিয়ম টিকিয়ে রাখতে না পারে, সে বিষয়েও আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমা খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে বিমার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশেও এর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধুমাত্র জীবন বিমা নয়, বরং মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যবসা, আবাসন এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বিমার পরিধি বিস্তৃত করার উপযুক্ত সময় এটি। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন, তাদের সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বিমা শিল্প গড়ে তুলতে সরকারের এই সংস্কারমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

বিশ্বের শীর্ষ কূটনীতিক, অথচ বেতন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রীদের চেয়েও কম!

বিমা খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি গভীরে, কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত ০৬:০১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বিমা খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্প্রতি রাজধানীর বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, এই খাতের অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতি এতটাই গভীরে শিকড় গেড়েছে যে তা দূর করতে বেশ কিছু কঠিন ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিমা খাতে জমা রাখলেও অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে সেই দাবি পরিশোধ করছে না। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৫৭ শতাংশ বিমা দাবি এখনো অনিষ্পন্ন বা ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। গ্রাহকদের এই আস্থার সংকট দূর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।

বিমা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম রোধে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থের সংকট রয়েছে, প্রয়োজনে তাদের জমানো সম্পদ বা জমি বিক্রি করে হলেও গ্রাহকদের সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া, কিছু প্রতিষ্ঠানে দুটি আলাদা সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে অস্বচ্ছতার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে, যার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ কমাতে পুরো বিমা খাতকে আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে, যেখানে সমস্ত লেনদেন অনলাইনে সম্পন্ন হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে।

খাতটির সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে বিমা আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের আদলে একটি কার্যকর ‘রেজুলেশন’ কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে সাত থেকে আটটি বিমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর নিজস্ব দক্ষ ও পেশাদার জনবল তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ডেপুটেশন নির্ভরতা কাটিয়ে একটি শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। আইনি জটিলতা বা আদালতের স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন অনিয়ম টিকিয়ে রাখতে না পারে, সে বিষয়েও আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমা খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে বিমার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশেও এর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধুমাত্র জীবন বিমা নয়, বরং মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যবসা, আবাসন এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বিমার পরিধি বিস্তৃত করার উপযুক্ত সময় এটি। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন, তাদের সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বিমা শিল্প গড়ে তুলতে সরকারের এই সংস্কারমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।