ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে নতুন কয়েকটি রেকর্ড নিজের নামের পাশে যুক্ত করেছেন। বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তিনি একাধিক মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাসে এর আগে কেউ যা করতে পারেননি, সেটিই করে দেখিয়েছেন এই তারকা ব্যাটার। তার এই অবিস্মরণীয় সাফল্যের ফলে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলও সিরিজে প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করাকে সবসময়ই ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন ও ভীতিপ্রদ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এই সময়ে উইকেটের আচরণ বোলারদের পক্ষে থাকে এবং দলের ওপর জয়ের রানের বাড়তি চাপ থাকে। পাকিস্তানের দেওয়া মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড দলের ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যয় নেমে আসে এবং মাত্র ২ রানেই দুই ওপেনার সাজঘরে ফিরে যান। এমন চরম সংকটপূর্ণ মুহূর্তে ক্রিজে এসে দলের হাল ধরেন রুট এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে জর্ডান কক্সকে সঙ্গে নিয়ে দলকে নিরাপদেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
এই ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করার সুবাদেই রুট টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এই বিশেষ অংশে দুই হাজার রান পূর্ণ করার গৌরব অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি, এজবাস্টন স্টেডিয়ামের উইকেটে টেস্ট ক্রিকেটে এক হাজার রান সংগ্রহকারী প্রথম ব্যাটার হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে তিনি মোট চারটি ভিন্ন টেস্ট ভেন্যুতে এক হাজার বা তার বেশি রান করার দুর্লভ ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন। ক্রিকেট ইতিহাসে লর্ডস, ম্যানচেস্টার ও দ্য ওভালের পর এবার এজবাস্টনেও তার এই রানপাহাড় গড়ার অনন্য রেকর্ড যুক্ত হলো।
এজবাস্টনে খেলা এই ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংসটি রুটের টেস্ট ক্যারিয়ারের উনসত্তরত্ম অর্ধশতক, যার সুবাদে তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন ভারতীয় কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারকে। টেস্ট ফরম্যাটে এত দিন সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ডটি শচিনের দখলে থাকলেও, এখন এককভাবে সেই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন এই ইংলিশ ব্যাটার। শচিনের অর্জিত ৬৮টি ফিফটির রেকর্ড ভেঙে তিনি নতুন এই কীর্তি গড়েন এবং তা করতে তিনি কিংবদন্তি ভারতীয় ব্যাটারের চেয়ে কম ইনিংস খেলেছেন। এছাড়া, তার টেস্ট ক্যারিয়ারে অর্ধশতক বা তার চেয়ে বেশি রানের ইনিংসের সংখ্যা এখন মোট ১১০টিতে উন্নীত হয়েছে।
ব্যক্তিগত এই মাইলফলক অর্জনের দিনে দলগত সাফল্যও যোগ হয়েছে রুটের মুকুটে, কারণ পাকিস্তান বধের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ড তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটিতে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছে। কঠিন পরিস্থিতিতে দলের প্রয়োজন মেটানো এবং একই সঙ্গে বিশ্বরেকর্ড গড়া রুটের ধারাবাহিক এবং অসাধারণ সামর্থ্যের বড় প্রমাণ বহন করে। সিরিজের শেষ দিনগুলোতে তার ব্যাট থেকে আসা এই দায়িত্বশীল ইনিংসটি ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে। চতুর্থ ইনিংসে দুই হাজার রান, নির্দিষ্ট ভেন্যুতে হাজার রান এবং সর্বাধিক ফিফটির মালিক—সব মিলিয়ে রুট নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারকে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ে রূপান্তর করেছেন।




































