রাজধানীর গুলশান এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হঠাৎ বের করা একটি মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও নয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা উভয় পক্ষের আইনি শুনানি শেষে আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের সূত্রে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিয়েছে।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট ৯ আসামিকে আদালতে হাজির করে বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের পক্ষে জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তার তীব্র বিরোধিতা করে। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর চূড়ান্ত নির্দেশ দেন, ফলে তাদের আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
কারাগারে পাঠানো এই নয় অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বিল্লাল গাজী, ইসমাঈল সিরাজী, মো. আরিফুর রহমান দিপু, মো. ইদ্রিসুল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ, চিত্ত হক, নিরব খান এবং মো. সোহেল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের সক্রিয় কর্মী, যারা গুলশানের ওই ঝটিকা মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে সংঘটিত ওই মিছিলের ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় একশজনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, বৈধ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আসামিরা জড়ো হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। এছাড়া পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুটি রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৮৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর গুলশান বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে সর্বশেষ এই নয়জনকে আটক করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





































