দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু সোনা ও রুপার দাম পুনরায় সমন্বয় করা হয়েছে, যার ফলে ক্রেতাদের এখন থেকে আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস সম্প্রতি দেশের বাজারে সোনার নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা করেছে। এই নতুন দাম নির্ধারণের পর থেকে রাজধানীসহ দেশের সব সোনার দোকানে তা কার্যকর করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার স্থানীয় প্রভাব এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী কোনো নির্দেশনা বা নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই নির্ধারিত মূল্যেই সোনা ও রুপার বেচাকেনা চলবে।
সর্বশেষ দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে গ্রাহকদের এখন দুই লাখ ৩২ হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা দুই লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা এক লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অপরদিকে, সাধারণ বা সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।
শুধু সোনাই নয়, এর পাশাপাশি রুপার দামেও পরিবর্তন এনেছে দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাজুস। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম রাখা হচ্ছে ৫ হাজার ১৬ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপা চার হাজার ৭৮২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা চার হাজার ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার ৯১ টাকা, যা নির্ধারিত নিয়ম মেনে দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও মূল্যবান এই ধাতুটির দামে ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ করা যাচ্ছে। দফায় দফায় দাম বাড়ার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সোনার গহনা কেনার স্বপ্ন। এর ফলে দেশের জুয়েলারি ব্যবসা বাণিজ্যে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারের এই উচ্চমূল্য পরিস্থিতির মধ্যেও গহনাশিল্পের স্থায়িত্ব রক্ষায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দামের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ধরনের মূল্যসমন্বয় জরুরি বলে দাবি করেছে বাজুস।

































