দেশের সব অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো পেজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এই নির্দেশনা প্রদান করেছেন উচ্চ আদালত। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। আদালত মনে করেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি জানান, অনুমোদিত কোনো নীতিমালা বা নিবন্ধন ছাড়াই দেশে অসংখ্য অনলাইন পোর্টাল পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এসব অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ববর্তী নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা ও রুল জারি করেন। আদালত বিটিআরসি-র চেয়ারম্যানকে অনিবন্ধিত পোর্টাল ও গুজব সৃষ্টিকারী পেজগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুল জারি করা হয়।
আদালতের এই আদেশের ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার রোধ এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আইনি পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ আদালতের এই নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিচালিত ক্ষতিকর ও অননুমোদিত ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নজরদারি ও অপসারণের কাজ শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





































