দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং উৎপাদনের গতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন এক কৌশলগত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি অর্থায়ন ব্যবহার করে ভবিষ্যতে নতুন কোনো ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে না। মূলত রাষ্ট্রের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে আরও বেশি উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নীতিনির্ধারক মহল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরাসরি কারখানা গড়ার চেয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা অর্থনীতির জন্য বেশি সুফল বয়ে আনবে। এর ফলে সরকারি খাতের মূলধন সাশ্রয় হবে এবং সেই অর্থ অন্যান্য জনকল্যাণমুখী খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
নতুন এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা এবং সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। সরকারের বিশ্বাস, বেসরকারি খাতের দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে রুগ্ন বা ধীরগতিসম্পন্ন শিল্পগুলো লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। এতে সামগ্রিক শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিরা সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সরকারি খাতের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বেসরকারি খাতকে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিলে তা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




































