ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একাত্তরের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেছিলো। সংসদে আইনটি পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো ‘না’ ভোট দেয়নি। ‘না’ ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে ১৯৭১ সালের ভূমিকা মেনে নিয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্রান্ডে জামায়াতের সাবেক নেতা ও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‌ব্যারিস্টার রাজ্জাক যে রাজনৈতিক দর্শন এবং নীতি অনুসরণ করেন তার আলোকে ২০১৬ সালে একটি বিবৃতিখসড়া করেছিলেন। যেখানে তিনি একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার চেষ্টা করেছেন। সেই স্টেটমেন্টটা যদি ২০১৬ সালে স্বাক্ষর করা হতো, তাহলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো।

তিনি বলেন, বলেন, প্রকাশিত এই বইটিতে জামায়াতের অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আজকে জামায়াতের যারা প্রথম সারির আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত জামায়াতের নেতারা আছেন আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন। তারা কেউ উপস্থিত হতে পারেননি। এটা তাদের দীনতা, এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা। তারা উপস্থিত হয়ে বইয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারতেন, কারণ এটাই গণতন্ত্র।

মো.আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এ মুক্তিযোদ্ধাদের একটা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেই সংজ্ঞার মধ্যে ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরোধিতা করেছিলো, সেই কথাটি নিবন্ধিত করা আছে। এটাতে ২০২৫ সালের সংশোধনীতে কিছু সংশোধনী আনা হলো। আমরা ২০২৬ সালে এটা সংসদ অধিবেশনে কার্যকর করতে গেলে বিশেষ কমিটিতে এই বিষয়টা আনা হয়। তখন দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জামায়াতের নামটা এখান থেকে বাদ দেওয়া যাবে কিনা।

তিনি বলেন, সংশোধনীতে বলা হলো যে, ‘মুক্তিযোদ্ধা কারা?’ সংজ্ঞায় বলা আছে, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামী পার্টির বিরোধিতা করেছেন, সংগ্রাম করেছেন দেশ স্বাধীনের জন্য- তারা হলেন মুক্তিযোদ্ধা। জামায়াতের দাবি ছিল, জামায়াতের নামটা ওখান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা বললাম, ঐতিহাসিক সত্যটাকে আমরা তো অস্বীকার করতে পারি না। আলোচনার এক পর্যায়ে এসে ওখানে শুধু লেখা হলো ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’, ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’। পরে পার্লামেন্টে এই আইনটা উপস্থাপন করা হলো। আপনারা জানেন যে, পার্লামেন্টে আইন পাস করতে গেলে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট দেওয়ার বিধান রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর কোনো সদস্য এতে ‘না’ ভোট দেননি। এটা রেকর্ডেড।

আইনমন্ত্রী বলেন, ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটি একজন আইনবিদের জন্য লিখিত গদ্য। ইসলামিক শাসন কায়েম করে চাপিয়ে দেব, সেটা একটা ভ্রান্তনীতি। বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠিত হোক, রাষ্ট্র পরিচালিত হোক- সেটাই হবে প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ।

জনপ্রিয়

সৌদি তেল সংকট সবখানেই জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে

একাত্তরের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত ০৬:০৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনমন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেছিলো। সংসদে আইনটি পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো ‘না’ ভোট দেয়নি। ‘না’ ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে ১৯৭১ সালের ভূমিকা মেনে নিয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্রান্ডে জামায়াতের সাবেক নেতা ও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‌ব্যারিস্টার রাজ্জাক যে রাজনৈতিক দর্শন এবং নীতি অনুসরণ করেন তার আলোকে ২০১৬ সালে একটি বিবৃতিখসড়া করেছিলেন। যেখানে তিনি একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার চেষ্টা করেছেন। সেই স্টেটমেন্টটা যদি ২০১৬ সালে স্বাক্ষর করা হতো, তাহলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো।

তিনি বলেন, বলেন, প্রকাশিত এই বইটিতে জামায়াতের অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আজকে জামায়াতের যারা প্রথম সারির আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত জামায়াতের নেতারা আছেন আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন। তারা কেউ উপস্থিত হতে পারেননি। এটা তাদের দীনতা, এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা। তারা উপস্থিত হয়ে বইয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারতেন, কারণ এটাই গণতন্ত্র।

মো.আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এ মুক্তিযোদ্ধাদের একটা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেই সংজ্ঞার মধ্যে ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরোধিতা করেছিলো, সেই কথাটি নিবন্ধিত করা আছে। এটাতে ২০২৫ সালের সংশোধনীতে কিছু সংশোধনী আনা হলো। আমরা ২০২৬ সালে এটা সংসদ অধিবেশনে কার্যকর করতে গেলে বিশেষ কমিটিতে এই বিষয়টা আনা হয়। তখন দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জামায়াতের নামটা এখান থেকে বাদ দেওয়া যাবে কিনা।

তিনি বলেন, সংশোধনীতে বলা হলো যে, ‘মুক্তিযোদ্ধা কারা?’ সংজ্ঞায় বলা আছে, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামী পার্টির বিরোধিতা করেছেন, সংগ্রাম করেছেন দেশ স্বাধীনের জন্য- তারা হলেন মুক্তিযোদ্ধা। জামায়াতের দাবি ছিল, জামায়াতের নামটা ওখান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা বললাম, ঐতিহাসিক সত্যটাকে আমরা তো অস্বীকার করতে পারি না। আলোচনার এক পর্যায়ে এসে ওখানে শুধু লেখা হলো ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’, ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’। পরে পার্লামেন্টে এই আইনটা উপস্থাপন করা হলো। আপনারা জানেন যে, পার্লামেন্টে আইন পাস করতে গেলে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট দেওয়ার বিধান রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর কোনো সদস্য এতে ‘না’ ভোট দেননি। এটা রেকর্ডেড।

আইনমন্ত্রী বলেন, ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটি একজন আইনবিদের জন্য লিখিত গদ্য। ইসলামিক শাসন কায়েম করে চাপিয়ে দেব, সেটা একটা ভ্রান্তনীতি। বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠিত হোক, রাষ্ট্র পরিচালিত হোক- সেটাই হবে প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ।