রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত সরকারি কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উন্নত জাতের মুরগির বাচ্চা বা ডিওসি (Day-Old Chick) উৎপাদন কার্যক্রম আরও বেগবান করার জন্য জোরালো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই খামার পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নির্দেশ প্রদান করেন। দেশের পোল্ট্রি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এবং খামারিদের কাছে সহজলভ্য মূল্যে উন্নত জাতের মুরগির বাচ্চা সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারের সার্বিক উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় খামারে বিদ্যমান নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন ঘাটতির বিষয়গুলো তাঁর নজরে আসে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বর্তমান সময়ের চাহিদা মেটাতে হলে খামারের কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে এবং উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে হবে।
খামারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনবল সংকট নিরসনেও প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অনুপযোগী শেডগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার করার তাগিদ দেন তিনি, যাতে সেগুলোকে আবার উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, খামারে জনবল ঘাটতির কারণে যেন দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি খামারগুলোর নিষ্ক্রিয়তা দূর করে সেগুলোকে জনমুখী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশনা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে খামারে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের সাধারণ খামারিরা কম খরচে মানসম্মত বাচ্চা সংগ্রহ করতে পারবেন এবং সামগ্রিকভাবে দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে এই খামার আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।


































