জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রথম ভাষণে তিনি ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর চলা দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও মানবিক সংকটের তীব্র নিন্দা জানান। ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে বাংলাদেশ সবসময় পাশে থাকবে বলে তিনি বিশ্ববাসীর সামনে ঘোষণা করেন।
বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সশস্ত্র সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং সাধারণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন। যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করে যেকোনো আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে হবে। এর জন্য আলোচনার টেবিল, কূটনৈতিক সদিসভা এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকেই একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গৌরবময় ও সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে ঢাকা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। একা কোনো দেশের পক্ষে এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।
ভাষণের অন্যান্য অংশে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খোঁজার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ, নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ও নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট নীতি ও অর্জনের কথা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।































