ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নদীর স্রোতের ওপর টানানো সরু দড়ি বেয়ে হেঁটে ১০০ মিটার পাড়ি দিলেন শি Logo পত্রিকা:‌ ”অপারেশন ক্লিন হার্টের’ আদলে অভিযানের চিন্তা’ Logo মাঠে না নেমেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ Logo এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তায় গুগল, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের উদ্যোগ Logo সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার নেপথ্যের ব্যক্তিরা এখনো ধরা পড়েননি Logo জাপানে বর্মযুক্ত ডাইনোসরের জীবাশ্ম শনাক্ত Logo প্রচলিত যুদ্ধের নিয়মে খেলছে না হুতিরা Logo দাঁত মাজলে কি জীবাণু মরে Logo নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়ার জ্বালানি তথ্য প্রকাশে কড়াকড়ি পুতিনের Logo ছোট পর্দায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচের সঙ্গে থাকছে নেশন্স লিগের যত খেলা

প্রচলিত যুদ্ধের নিয়মে খেলছে না হুতিরা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে আসা ছোট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি আজ গোটা বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জায়দি শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে নব্বইয়ের দশকে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে বঞ্চনা ও বৈষম্যের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তারা শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে রূপ নেয়। দশকের পর দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধ এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও এই গোষ্ঠীটি দুর্বল না হয়ে বরং নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তার করেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জনবহুল বড় একটি অংশ তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির শক্তির বড় উৎস কেবল তাদের অস্ত্রভাণ্ডার নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত কৌশলগত একটি ভৌগোলিক অবস্থান। লোহিত সাগর থেকে এডেন উপসাগরে প্রবেশের মূল জলপথ বা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ঠিক পাশেই অবস্থান করছে হুতিরা। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুটে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেওয়ায় বিশ্ববাণিজ্য এখন তাদের একপ্রকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছ থেকে কৌশলগত ও সামরিক সহায়তা পেয়ে তাদের এই সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এই ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, তবে হুতিদের আধুনিক প্রযুক্তি এবং ড্রোন ব্যবহারের দক্ষতা বিশ্বশক্তিগুলোকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

হুতিরা প্রচলিত যুদ্ধরীতির ধার ধারে না বরং তারা এমন এক কৌশলে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে যা প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিশ্বের মহাশক্তিগুলোর মতো বিশাল সামরিক বাহিনী বা অস্ত্রভাণ্ডার তাদের না থাকলেও, কম খরচে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। একটি সস্তা ড্রোন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশগুলোকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে বড় ক্ষতি ডেকে আনে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের অবস্থানে বিমান হামলা চালালেও এই গেরিলা কৌশলের কারণে হুতিদের পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হয়নি।

গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের কথা বলে লোহিত সাগরে চলাচলকারী ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালাতে শুরু করে হুতি বিদ্রোহীরা। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে বাধ্য হয়ে আফ্রিকার প্রান্তর ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ বেছে নিতে হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহনের সময় এবং খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা এই বৈশ্বিক সংকটের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি অনুভব করছে। আমদানিব্যয় ও কনটেইনার ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত এর অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ ভোক্তাদের পকেটেই গিয়ে পড়ছে।

জনপ্রিয়

নদীর স্রোতের ওপর টানানো সরু দড়ি বেয়ে হেঁটে ১০০ মিটার পাড়ি দিলেন শি

প্রচলিত যুদ্ধের নিয়মে খেলছে না হুতিরা

প্রকাশিত ০৭:৪৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে আসা ছোট একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি আজ গোটা বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জায়দি শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে নব্বইয়ের দশকে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে বঞ্চনা ও বৈষম্যের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তারা শক্তিশালী সামরিক শক্তিতে রূপ নেয়। দশকের পর দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধ এবং বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও এই গোষ্ঠীটি দুর্বল না হয়ে বরং নিজেদের প্রভাব আরও বিস্তার করেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জনবহুল বড় একটি অংশ তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির শক্তির বড় উৎস কেবল তাদের অস্ত্রভাণ্ডার নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত কৌশলগত একটি ভৌগোলিক অবস্থান। লোহিত সাগর থেকে এডেন উপসাগরে প্রবেশের মূল জলপথ বা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ঠিক পাশেই অবস্থান করছে হুতিরা। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুটে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেওয়ায় বিশ্ববাণিজ্য এখন তাদের একপ্রকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছ থেকে কৌশলগত ও সামরিক সহায়তা পেয়ে তাদের এই সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এই ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, তবে হুতিদের আধুনিক প্রযুক্তি এবং ড্রোন ব্যবহারের দক্ষতা বিশ্বশক্তিগুলোকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

হুতিরা প্রচলিত যুদ্ধরীতির ধার ধারে না বরং তারা এমন এক কৌশলে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে যা প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিশ্বের মহাশক্তিগুলোর মতো বিশাল সামরিক বাহিনী বা অস্ত্রভাণ্ডার তাদের না থাকলেও, কম খরচে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে। একটি সস্তা ড্রোন প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য দেশগুলোকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে বড় ক্ষতি ডেকে আনে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো তাদের অবস্থানে বিমান হামলা চালালেও এই গেরিলা কৌশলের কারণে হুতিদের পুরোপুরি দমন করা সম্ভব হয়নি।

গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের কথা বলে লোহিত সাগরে চলাচলকারী ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালাতে শুরু করে হুতি বিদ্রোহীরা। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোকে বাধ্য হয়ে আফ্রিকার প্রান্তর ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ বেছে নিতে হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহনের সময় এবং খরচ উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা এই বৈশ্বিক সংকটের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি অনুভব করছে। আমদানিব্যয় ও কনটেইনার ভাড়া বেড়ে যাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত এর অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ ভোক্তাদের পকেটেই গিয়ে পড়ছে।