জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানবাধিকারের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা নিরূপণে যৌথভাবে গবেষণা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা বা এএফডি। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিশেষ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার পরিবেশবিশেষজ্ঞ ড. ফরিদ লামারা এবং সংস্থাটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিউম্যান ম্যাক্স এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
উভয় পক্ষের এই বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকট পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ তথ্য সংগ্রহের কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। এই কাঠামোটি তৈরি হলে তা ব্যবহার করে দেশের সরকার, বিভিন্ন সুশীল সমাজ এবং শিক্ষাঙ্গনের প্রতিনিধিরা জলবায়ুজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সুশৃঙ্খলভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে থাকবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং এর কার্যক্রম সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ গবেষণা কমিটি ও বৈজ্ঞানিক কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে নদীদূষণ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলোতে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই সময়োপযোগী ও জনগুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের জন্য ফরাসি প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিধি বাড়াতে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বে কাজ করার জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই গবেষণা প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং এর ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এএফডি এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা অত্যন্ত জরুরি। উপাচার্য আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এই গবেষণার সুনির্দিষ্ট ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দেশের নদ-নদীগুলোকে ক্ষতিকর রাসায়নিক দূষণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষক ও শিক্ষাবিদরা উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রকল্পের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও তাত্ত্বিক দিক নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকে জলবায়ু নীতি ও মানবাধিকার সুরক্ষার আইনি ও পরিবেশগত দিকগুলো তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই গবেষণা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর দলিল হিসেবে কাজ করবে।



































