কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভারত সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম চরাঞ্চলে মাদক ও চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ এবং এর লভ্যাংশ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি বা মরার চর গ্রামে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে গোলাম মস্তফা টেঙ্গর নামের ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আসা বিভিন্ন অবৈধ মাদক ও চোরাচালানি পণ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আজাহার এবং পটল মণ্ডলের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত কয়েক দিন ধরেই উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এরই চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে সেদিন বিকেলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে পটল গ্রুপের প্রধানের ছোট ভাই গোলাম মস্তফা টেঙ্গরের পেটে ধারালো অস্ত্র সড়কি বিদ্ধ হয় এবং তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মারাত্মক আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া এই ভয়াবহ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে সুমন মিয়া, হাদু মণ্ডল, রাশিদুল, ফটিক, বজলু, আজাদ মণ্ডল ও রাজু মণ্ডল রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান যে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও উত্তেজনার কারণেই এই মর্মান্তিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানিয়েছেন যে সীমান্তবর্তী এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে পুলিশ পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং এই সংঘর্ষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

































