ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জ: মধ্যরাতে সারিতে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছেন না কৃষক Logo সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনে ‘স্বপ্ন সারথী’র সংবর্ধনা Logo মসজিদের বিদ্যুৎ নীতিমালা ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির Logo বসনিয়ার কাছে পোল্যান্ডের হার Logo বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: এক বছরে দারিদ্র্যের ফাঁদে আরও ২১ লাখ মানুষ Logo লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো নিয়ে নিতে পারে ইরান, বললেন ট্রাম্প Logo একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চায়নের সুযোগ শেষ হচ্ছে আজ Logo বিদেশি অনুদানে টান: অর্থায়ন ঝুঁকিতে ২,২০০ এনজিও Logo ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে Logo মিয়ানমারের ১০ হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

সাংবাদিকদের দাবির মুখে রাবির জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি

সাংবাদিকদের তীব্র আন্দোলন ও দাবির মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গভীর রাতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম নিজেই এই সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন যে, সংবাদকর্মীদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আগামী তিন দিনের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ক্যাম্পাসে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এই গুরুতর ঘটনার পর শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলে তিনি তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং পরবর্তীতে ওই গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজগুলো মুছে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার সময় এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে হল প্রভোস্টের সরাসরি উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি, যা দায়িত্বের প্রতি চরম অবহেলার শামিল।

অন্যদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অব্যাহতিপ্রাপ্ত ওই হল প্রভোস্ট। তার দাবি, সে সময় ভবনে সংস্কার কাজ চলমান থাকার কারণে সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল না। তবে তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান সংবাদকর্মীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট মোট ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছিলেন, যার মধ্যে প্রভোস্টের অপসারণ ছিল অন্যতম একটি প্রধান দাবি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথম দাবিটি মেনে নেওয়ার পর বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য তিন দিন সময় চাওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত সাংবাদিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রশাসন যে তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, সেই সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে হামলায় সরাসরি জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রশাসন যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে তারা আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে বাকি অপরাধীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

জনপ্রিয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: মধ্যরাতে সারিতে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছেন না কৃষক

সাংবাদিকদের দাবির মুখে রাবির জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি

প্রকাশিত ০৪:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিকদের তীব্র আন্দোলন ও দাবির মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গভীর রাতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম নিজেই এই সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন যে, সংবাদকর্মীদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আগামী তিন দিনের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ক্যাম্পাসে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এই গুরুতর ঘটনার পর শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলে তিনি তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান এবং পরবর্তীতে ওই গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজগুলো মুছে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার সময় এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে হল প্রভোস্টের সরাসরি উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি, যা দায়িত্বের প্রতি চরম অবহেলার শামিল।

অন্যদিকে, সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অব্যাহতিপ্রাপ্ত ওই হল প্রভোস্ট। তার দাবি, সে সময় ভবনে সংস্কার কাজ চলমান থাকার কারণে সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের ফুটেজ সংরক্ষিত ছিল না। তবে তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান সংবাদকর্মীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট মোট ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছিলেন, যার মধ্যে প্রভোস্টের অপসারণ ছিল অন্যতম একটি প্রধান দাবি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথম দাবিটি মেনে নেওয়ার পর বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য তিন দিন সময় চাওয়া হয়েছে।

আন্দোলনরত সাংবাদিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রশাসন যে তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, সেই সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে হামলায় সরাসরি জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রশাসন যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে তারা আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে বাকি অপরাধীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।