ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আওয়ামিলীগকে সেফ মনে করলে শহীদ হওয়া ভাইবোনদের কথা স্মরণ কইরেন : আম্মার  Logo জাবি ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘ছাব্বিশের চোখে বায়ান্ন’ শীর্ষক চিত্রপ্রদর্শনী Logo প্রক্টর পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ Logo ‎পাবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের স্বস্তির নিঃশ্বাস Logo ‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফটো কনটেস্ট ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত ‎ Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় Logo মাহে রমাদানকে স্বাগত জানিয়ে জাবি শিবিরের আলোকসজ্জা Logo রাবিতে ভর্তির বিষয় পছন্দক্রম শুরু আজ : শিক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা Logo আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি : ইশরাক হোসেন Logo ১৫ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল, শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) সকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ লাইন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। একে একে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি।

অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার-ফেস্টুন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও অনুষদের শিক্ষার্থীরা, ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন।

তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিবার নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।
ঢাকার ওয়ারী থেকে আসা আসলাম নামের এক ব্যক্তি তার দশ বছরের ছোট্ট মেয়ে আলিফা রহমান আলেয়াকে নিয়ে আসেন। ছোট্ট মেয়েকে এই বয়সে ভাষা আন্দোলন ইতিহাস সংস্কৃতি সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে আসেন।

উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার বলেন,
১৯৫২ সালে আমাদের সূর্য সন্তানেরা বাংলা ভাষা জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে।আমরা তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবো না। শুদ্ধ বাংলা অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশাকে পূরণ করবো।

ছোটবেলা থেকে আব্বু ও আম্মুর সাথে প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাতে আসি। এতে সেই ইতিহাস অনুভবে আসে।

উত্তরা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে আসা আয়ান (১২) বলেন, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। যারা মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের ফুল দিতে এসেছি।
পুরান ঢাকা থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা রাকিব বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শ্রদ্ধা জানানো এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। এখানে আসলে বাংলা ভাষা আন্দোলন স্মৃতি মনে জাগিয়ে তোলে এক দেশাত্মবোধক। আজকে সকাল থেকে চেষ্টা করছি যতক্ষণ কথা বলবো পুরোপুরি বাংলায় কথা বলার। যদি ও আমাদের কথা বলার সময় ইংরেজি বলা অভ্যস হয়ে গেছে। বাংলাকে সম্মান দিয়ে এসব বর্জন করা সময়ের দাবি।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল– জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এর আগে প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপরই সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

আওয়ামিলীগকে সেফ মনে করলে শহীদ হওয়া ভাইবোনদের কথা স্মরণ কইরেন : আম্মার 

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল, শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা

প্রকাশিত ১১:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) সকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ লাইন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। একে একে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি।

অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার-ফেস্টুন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও অনুষদের শিক্ষার্থীরা, ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন।

তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিবার নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।
ঢাকার ওয়ারী থেকে আসা আসলাম নামের এক ব্যক্তি তার দশ বছরের ছোট্ট মেয়ে আলিফা রহমান আলেয়াকে নিয়ে আসেন। ছোট্ট মেয়েকে এই বয়সে ভাষা আন্দোলন ইতিহাস সংস্কৃতি সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে আসেন।

উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার বলেন,
১৯৫২ সালে আমাদের সূর্য সন্তানেরা বাংলা ভাষা জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে।আমরা তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবো না। শুদ্ধ বাংলা অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশাকে পূরণ করবো।

ছোটবেলা থেকে আব্বু ও আম্মুর সাথে প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাতে আসি। এতে সেই ইতিহাস অনুভবে আসে।

উত্তরা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে আসা আয়ান (১২) বলেন, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। যারা মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের ফুল দিতে এসেছি।
পুরান ঢাকা থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা রাকিব বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শ্রদ্ধা জানানো এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। এখানে আসলে বাংলা ভাষা আন্দোলন স্মৃতি মনে জাগিয়ে তোলে এক দেশাত্মবোধক। আজকে সকাল থেকে চেষ্টা করছি যতক্ষণ কথা বলবো পুরোপুরি বাংলায় কথা বলার। যদি ও আমাদের কথা বলার সময় ইংরেজি বলা অভ্যস হয়ে গেছে। বাংলাকে সম্মান দিয়ে এসব বর্জন করা সময়ের দাবি।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল– জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এর আগে প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপরই সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।