ঢাকা ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত পদক, জিন্নাতের মনে পড়ছে বাবাকে Logo গবেষণা বলছে হাড়ের যত্নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে তিল Logo চুয়েট-সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জ: মধ্যরাতে সারিতে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছেন না কৃষক Logo সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপনে ‘স্বপ্ন সারথী’র সংবর্ধনা Logo মসজিদের বিদ্যুৎ নীতিমালা ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির Logo বসনিয়ার কাছে পোল্যান্ডের হার Logo বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: এক বছরে দারিদ্র্যের ফাঁদে আরও ২১ লাখ মানুষ Logo লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো নিয়ে নিতে পারে ইরান, বললেন ট্রাম্প Logo একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চায়নের সুযোগ শেষ হচ্ছে আজ

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল, শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) সকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ লাইন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। একে একে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি।

অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার-ফেস্টুন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও অনুষদের শিক্ষার্থীরা, ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন।

তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিবার নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।
ঢাকার ওয়ারী থেকে আসা আসলাম নামের এক ব্যক্তি তার দশ বছরের ছোট্ট মেয়ে আলিফা রহমান আলেয়াকে নিয়ে আসেন। ছোট্ট মেয়েকে এই বয়সে ভাষা আন্দোলন ইতিহাস সংস্কৃতি সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে আসেন।

উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার বলেন,
১৯৫২ সালে আমাদের সূর্য সন্তানেরা বাংলা ভাষা জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে।আমরা তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবো না। শুদ্ধ বাংলা অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশাকে পূরণ করবো।

ছোটবেলা থেকে আব্বু ও আম্মুর সাথে প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাতে আসি। এতে সেই ইতিহাস অনুভবে আসে।

উত্তরা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে আসা আয়ান (১২) বলেন, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। যারা মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের ফুল দিতে এসেছি।
পুরান ঢাকা থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা রাকিব বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শ্রদ্ধা জানানো এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। এখানে আসলে বাংলা ভাষা আন্দোলন স্মৃতি মনে জাগিয়ে তোলে এক দেশাত্মবোধক। আজকে সকাল থেকে চেষ্টা করছি যতক্ষণ কথা বলবো পুরোপুরি বাংলায় কথা বলার। যদি ও আমাদের কথা বলার সময় ইংরেজি বলা অভ্যস হয়ে গেছে। বাংলাকে সম্মান দিয়ে এসব বর্জন করা সময়ের দাবি।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল– জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এর আগে প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপরই সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত পদক, জিন্নাতের মনে পড়ছে বাবাকে

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল, শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা

প্রকাশিত ১১:১৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) সকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ লাইন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। একে একে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি।

অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার-ফেস্টুন।

শ্রদ্ধা জানাতে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও অনুষদের শিক্ষার্থীরা, ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন।

তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিবার নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।
ঢাকার ওয়ারী থেকে আসা আসলাম নামের এক ব্যক্তি তার দশ বছরের ছোট্ট মেয়ে আলিফা রহমান আলেয়াকে নিয়ে আসেন। ছোট্ট মেয়েকে এই বয়সে ভাষা আন্দোলন ইতিহাস সংস্কৃতি সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে আসেন।

উত্তরা মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার বলেন,
১৯৫২ সালে আমাদের সূর্য সন্তানেরা বাংলা ভাষা জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে।আমরা তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবো না। শুদ্ধ বাংলা অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশাকে পূরণ করবো।

ছোটবেলা থেকে আব্বু ও আম্মুর সাথে প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাতে আসি। এতে সেই ইতিহাস অনুভবে আসে।

উত্তরা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে আসা আয়ান (১২) বলেন, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। যারা মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের ফুল দিতে এসেছি।
পুরান ঢাকা থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা রাকিব বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শ্রদ্ধা জানানো এক অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। এখানে আসলে বাংলা ভাষা আন্দোলন স্মৃতি মনে জাগিয়ে তোলে এক দেশাত্মবোধক। আজকে সকাল থেকে চেষ্টা করছি যতক্ষণ কথা বলবো পুরোপুরি বাংলায় কথা বলার। যদি ও আমাদের কথা বলার সময় ইংরেজি বলা অভ্যস হয়ে গেছে। বাংলাকে সম্মান দিয়ে এসব বর্জন করা সময়ের দাবি।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল– জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এর আগে প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপরই সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।