খেলা ডেস্ক: মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রথম সেশনেই বড় বিপর্যয় ঘটেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ইনিংসে। আগের দিন ভালো অবস্থানে থেকে খেলা শেষ করলেও এ দিন মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই শেষ হয়ে যায় শেষ সাতটি উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পড়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত সব কটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় মোটে ২৭২ রান। দিনের শুরুতে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর দ্রুতই উইকেট হারিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাদমান ইসলাম।
দিনটি শুরু হয়েছিল ওপেনার সাদমানের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি অর্জনের মধ্য দিয়ে। আগের দিন এক রান দূরে থাকা এই ব্যাটার সকালে মাঠে নেমেই কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান। তবে সেঞ্চুরির আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি এবং জশুয়া বিশপের বলে লেংথ বুঝতে ভুল করে ১০৫ রান করে এলবিডব্লিউ হন তিনি। তার বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অন্য ব্যাটাররাও। বিশপের করা পরের ওভারে তাওহিদ হৃদয় অযথা শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে দলের চাপ আরও বাড়িয়ে দেন।
এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান। তার ফ্লাইট ও ড্রিফটে বিভ্রান্ত হয়ে একে একে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের মিডল ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা। মাত্র ১৯ রানের ব্যবধানে শেষ পাঁচটি উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দল। দলের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত লিটন কুমার দাস ৩৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ওয়ারিক্যান ৫৩ রানের বিনিময়ে একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট।
ক্যারিয়ারের চতুর্থ পাঁচ উইকেট শিকার করে স্বাগতিক ব্যাটারদের চেপে ধরেন ক্যারিবীয় এই স্পিনার। তার ঘূর্ণি জালের পাশাপাশি পেসারদের শর্ট বলের কৌশলে বেশ ভুগতে হয় লিটনসহ অন্যান্য ব্যাটারদের। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের পুরনো দুর্বলতা আবারও প্রকট হয়ে ওঠে এই ইনিংসে। প্রথম সেশনের এই নাটকীয় পতনের ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।



































