ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের শাসনকালের মাঝপথে গত ৩ নভেম্বর দেশটির বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সবগুলো এবং সেনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, স্থানীয় আইনপ্রণেতা ও জনপ্রতিনিধি বেছে নিয়েছেন মার্কিন ভোটাররা। পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ভারমন্টে স্থানীয় সময় সকাল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং সেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার অংশ নেন। এর পরপরই পূর্ব উপকূলের নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া ও মেইনের মতো অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভা বা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ হলো সেনেট। দুই বছর মেয়াদী প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই এবারের নির্বাচনে ভোট হয়েছে। অন্যদিকে ছয় বছর মেয়াদী সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে এবার ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি ছিল নিয়মিত নির্বাচন এবং ফ্লোরিডা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে দুটি বিশেষ নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে যাওয়া শূন্য আসন পূরণের জন্যই এই বিশেষ নির্বাচনগুলো আয়োজন করা হয়। সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য কোনো দলের ৫ আসন প্রয়োজন হয় এবং সমতা দেখা দিলে নিয়ম অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট ভোট প্রদান করেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে মূলত মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে যাবে তা নির্ধারিত হয়। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের দখলে থাকবে, তার ওপর নির্ভর করে মূলত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কার্যকারিতা। এ ধরনের নির্বাচনকে অনেক সময় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের মূল্যায়ন বা তার প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টড বেল্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৬ সালের পর থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে প্রায় ছাব্বিশটি আসন হারিয়েছে। ফলে এই নির্বাচন মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ পাল্টে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

নির্বাচনে শুধু প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া অভিবাসন নীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোও ভোটারদের রায়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া কেমন হবে। সার্বিক দিক বিবেচনায় এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয়

ব্রাজিলে লুলা দ্য সিলভার বিজয়ের বৈশ্বিক গুরুত্ব

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট শুরু

প্রকাশিত ০৪:২২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের শাসনকালের মাঝপথে গত ৩ নভেম্বর দেশটির বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সবগুলো এবং সেনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, স্থানীয় আইনপ্রণেতা ও জনপ্রতিনিধি বেছে নিয়েছেন মার্কিন ভোটাররা। পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ভারমন্টে স্থানীয় সময় সকাল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং সেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার অংশ নেন। এর পরপরই পূর্ব উপকূলের নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া ও মেইনের মতো অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভা বা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ হলো সেনেট। দুই বছর মেয়াদী প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই এবারের নির্বাচনে ভোট হয়েছে। অন্যদিকে ছয় বছর মেয়াদী সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে এবার ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি ছিল নিয়মিত নির্বাচন এবং ফ্লোরিডা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যে দুটি বিশেষ নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ছেড়ে যাওয়া শূন্য আসন পূরণের জন্যই এই বিশেষ নির্বাচনগুলো আয়োজন করা হয়। সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য কোনো দলের ৫ আসন প্রয়োজন হয় এবং সমতা দেখা দিলে নিয়ম অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট ভোট প্রদান করেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে মূলত মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন রাজনৈতিক দলের হাতে যাবে তা নির্ধারিত হয়। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের দখলে থাকবে, তার ওপর নির্ভর করে মূলত প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার কার্যকারিতা। এ ধরনের নির্বাচনকে অনেক সময় ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের মূল্যায়ন বা তার প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টড বেল্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৬ সালের পর থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে প্রায় ছাব্বিশটি আসন হারিয়েছে। ফলে এই নির্বাচন মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ পাল্টে দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

নির্বাচনে শুধু প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া অভিবাসন নীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোও ভোটারদের রায়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া কেমন হবে। সার্বিক দিক বিবেচনায় এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।