ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

৮০০তম প্রদর্শনীর অপেক্ষায় লোক নাট্যদলের ‘কঞ্জুস’

বিনোদন ডেস্ক: দীর্ঘ চার দশকের পথচলা শেষে তাদের সাড়া জাগানো নাটক কঞ্জুস-এর আটশতম প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে লোক নাট্যদল। ফরাসি নাট্যকার মলিয়েরের দ্য মাইজার অবলম্বনে নাটকটি রূপান্তর করেছেন তারিক আনাম খান এবং এর নির্দেশনা দিয়েছেন কামরুন নূর চৌধুরী। ১৯৮৭ সালে প্রথম মঞ্চে আসার পর থেকে প্রযোজনাটি টানা চার দশক ধরে দর্শকদের নিয়মিত বিনোদন দিয়ে আসছে। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ঢাকার চারশো ষোলো বছর পূর্তি উদযাপনের বিশেষ আয়োজনে নাটকটির সাতশো আটানব্বইতম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। নাটকের এই বিশেষ অর্জন উদযাপনের জন্য দলটি শিগগিরই একটি উৎসবের আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে।

পুরোনো ঢাকার আবহ এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া ভাষার নিখুঁত ব্যবহারে নাটকটির চমৎকার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নাটকটির মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে হাড়কিপ্টে স্বভাবের কেন্দ্রীয় চরিত্র হায়দার আলী খান, তাঁর ছেলে কাযিম আলী খান, মেয়ে লাইলি বেগম এবং বদিউজ্জামান ওরফে বদি মিয়ার পারিবারিক টানাপোড়েন নিয়ে। সমুদ্র ভ্রমণে লাইলির প্রেমে পড়ে বদি মিয়া শেষ পর্যন্ত হায়দার আলীর খাস চাকর হিসেবে কাজ শুরু করে। অন্যদিকে কাযিম ভালোবাসে পাশের বাড়ির মর্জিনা বেগমকে, কিন্তু বাঁধে বিপত্তি যখন বাবা হায়দার আলীর চোখ পড়ে সেই মর্জিনার ওপরই। ঘটক গোলাপজানের মধ্যস্থতায় এভাবেই হাস্যরসে ভরপুর এক জটিল পারিবারিক পরিস্থিতি নাটকে এগিয়ে চলে।

নাটকের খাস চরিত্র হায়দার আলী খানের ভূমিকায় শুরু থেকেই মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করে আসছেন অভিনেতা আবদুল্লাহ আল হারুন। এছাড়া ঘটক গোলাপজানের চরিত্রে রূপদানকারী সামসাদ বেগম একাই পাঁচশরও বেশি প্রদর্শনীতে অভিনয় করে রেকর্ড গড়েছেন বলে জানিয়েছে নাট্যদলটি। চমৎকার মঞ্চসজ্জা, আলোকসজ্জা, সংগীত, পোশাক ও রূপসজ্জার সমন্বয়ে নির্মিত এই পরিবেশনা চার দশক ধরে নতুন নতুন দর্শক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। দলটির মতে, এই দীর্ঘ যাত্রায় তাদের পরিবেশনা শুধু রাজধানীর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিশ্বের একাধিক দেশেও প্রদর্শিত হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে একটি নাটকের সফল মঞ্চায়ন দেশের নাট্যজগতে অত্যন্ত বিরল এবং এটি বাংলা নাট্যচর্চার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। নিয়মিত প্রদর্শনী ও দর্শকদের অব্যাহত ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নাটকটি প্রমাণিত করেছে যে মানসম্মত শিল্পকর্ম দীর্ঘকাল মানুষের হৃদয়ে টিকে থাকতে পারে। লোক নাট্যদলের এই সুদীর্ঘ পথচলা এবং আটশতম প্রদর্শনীর অপেক্ষা দেশের নাট্যকর্মীদের জন্য দারুণ এক উৎসাহের বিষয়। কঞ্জুস নাটকের এই ধারাবাহিক সাফল্য ভবিষ্যতে নাট্যাঙ্গনের প্রসারে এবং নতুন প্রজন্মকে নাট্যমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জনপ্রিয়

মানুষ, প্রাণী ও প্রকৃতি: গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে ওয়ান হেলথের গুরুত্ব

৮০০তম প্রদর্শনীর অপেক্ষায় লোক নাট্যদলের ‘কঞ্জুস’

প্রকাশিত ০১:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বিনোদন ডেস্ক: দীর্ঘ চার দশকের পথচলা শেষে তাদের সাড়া জাগানো নাটক কঞ্জুস-এর আটশতম প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে লোক নাট্যদল। ফরাসি নাট্যকার মলিয়েরের দ্য মাইজার অবলম্বনে নাটকটি রূপান্তর করেছেন তারিক আনাম খান এবং এর নির্দেশনা দিয়েছেন কামরুন নূর চৌধুরী। ১৯৮৭ সালে প্রথম মঞ্চে আসার পর থেকে প্রযোজনাটি টানা চার দশক ধরে দর্শকদের নিয়মিত বিনোদন দিয়ে আসছে। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ঢাকার চারশো ষোলো বছর পূর্তি উদযাপনের বিশেষ আয়োজনে নাটকটির সাতশো আটানব্বইতম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। নাটকের এই বিশেষ অর্জন উদযাপনের জন্য দলটি শিগগিরই একটি উৎসবের আয়োজন করবে বলে জানিয়েছে।

পুরোনো ঢাকার আবহ এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া ভাষার নিখুঁত ব্যবহারে নাটকটির চমৎকার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নাটকটির মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে হাড়কিপ্টে স্বভাবের কেন্দ্রীয় চরিত্র হায়দার আলী খান, তাঁর ছেলে কাযিম আলী খান, মেয়ে লাইলি বেগম এবং বদিউজ্জামান ওরফে বদি মিয়ার পারিবারিক টানাপোড়েন নিয়ে। সমুদ্র ভ্রমণে লাইলির প্রেমে পড়ে বদি মিয়া শেষ পর্যন্ত হায়দার আলীর খাস চাকর হিসেবে কাজ শুরু করে। অন্যদিকে কাযিম ভালোবাসে পাশের বাড়ির মর্জিনা বেগমকে, কিন্তু বাঁধে বিপত্তি যখন বাবা হায়দার আলীর চোখ পড়ে সেই মর্জিনার ওপরই। ঘটক গোলাপজানের মধ্যস্থতায় এভাবেই হাস্যরসে ভরপুর এক জটিল পারিবারিক পরিস্থিতি নাটকে এগিয়ে চলে।

নাটকের খাস চরিত্র হায়দার আলী খানের ভূমিকায় শুরু থেকেই মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করে আসছেন অভিনেতা আবদুল্লাহ আল হারুন। এছাড়া ঘটক গোলাপজানের চরিত্রে রূপদানকারী সামসাদ বেগম একাই পাঁচশরও বেশি প্রদর্শনীতে অভিনয় করে রেকর্ড গড়েছেন বলে জানিয়েছে নাট্যদলটি। চমৎকার মঞ্চসজ্জা, আলোকসজ্জা, সংগীত, পোশাক ও রূপসজ্জার সমন্বয়ে নির্মিত এই পরিবেশনা চার দশক ধরে নতুন নতুন দর্শক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। দলটির মতে, এই দীর্ঘ যাত্রায় তাদের পরিবেশনা শুধু রাজধানীর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিশ্বের একাধিক দেশেও প্রদর্শিত হয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে একটি নাটকের সফল মঞ্চায়ন দেশের নাট্যজগতে অত্যন্ত বিরল এবং এটি বাংলা নাট্যচর্চার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। নিয়মিত প্রদর্শনী ও দর্শকদের অব্যাহত ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নাটকটি প্রমাণিত করেছে যে মানসম্মত শিল্পকর্ম দীর্ঘকাল মানুষের হৃদয়ে টিকে থাকতে পারে। লোক নাট্যদলের এই সুদীর্ঘ পথচলা এবং আটশতম প্রদর্শনীর অপেক্ষা দেশের নাট্যকর্মীদের জন্য দারুণ এক উৎসাহের বিষয়। কঞ্জুস নাটকের এই ধারাবাহিক সাফল্য ভবিষ্যতে নাট্যাঙ্গনের প্রসারে এবং নতুন প্রজন্মকে নাট্যমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।